দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়গ্রামের আঁধারিয়া গ্রামে দলছুট হাতির হানায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজন বনকর্মী ও অন্য জন গ্রামবাসী।
বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের পড়িহাটি রেঞ্জের শঙ্খহারা বিটের আঁধারিয়া গ্রামের মঙ্গলবার সকাল ন'টা থেকে দশটার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। আঁধারিয়া গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গল থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি এলাকায় ঢুকে পড়ে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের বাধায় হাতিটি গ্রামের মধ্যে কোনও ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে হাতিটি আঁধারিয়া গ্রাম সংলগ্ন ধান জমিতে চলে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বনকর্মীরা। তাঁদের কয়েক জন হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় আচমকাই বনকর্মীদের দিকে তেড়ে আসে হাতিটি। তখন ধানজমির আল থেকে পড়ে গিয়ে অল্পের জন্য হাতির হাত থেকে প্রাণ বাঁচে শিবশঙ্কর মাহাতো নামে বছর বত্রিশের এক জন বনকর্মীর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে শিবশঙ্কর মাহাত জমির আলে পড়ে যাওয়ার জন্যই হাতিটি তাঁকে দেখতে না পেয়ে চলে যায়। ওই বনকর্মীকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর একটি পা ভেঙে গেছে।
তারপরে গ্রামবাসী, বনকর্মী ও হুলাপার্টির লোকজন একত্রিত হয়ে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়।
বিকেলে আবার বন থেকে ওই হাতিটি বেরিয়ে আঁধারিয়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। সেই সময় আঁধারিয়া গ্রামের স্থানীয় একটি পুকুরে মধু সিং নামে বছর আটচল্লিশের এক ব্যক্তিকে পুকুরপাড়ে পেয়ে হাতিটি শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন মধু সিং। গ্রামবাসীরা তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যন। মধু সিংয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঝাড়গ্রামের জেলা বনাধিকারিক বাসবরাজ হলেইচি বলেন, “একটি হাতির হানায় এক বনকর্মী ও একজন গ্রামবাসী আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা দুজনেই ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”