দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ দুর্গাপুজোয় বেলুর মঠে পুজো দেখতে যাওয়ার উন্মাদনা বাঙালিদের মধ্যে অন্য রকমের। বিশেষ করে কুমারী পুজোর দিনে তিল ধারণের জায়গা হয় না মঠ চত্বরে। তারমধ্যে এবার ১৯ বছর পরে মূল মন্দিরের ভেতরেই হয়েছে পুজোর আয়োজন। কুমারী পুজোরও আয়োজন হচ্ছে মূল মন্দিরের পশ্চিমের দিকের বারান্দায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকছে মঠের দরজা। পুজো দেখতে মঠের মধ্যে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। কিন্তু অনলাইনে পুজো দেখা যাবে বলেই জানানো হয়েছে মঠের তরফে।
করোনা অতিমারীর মধ্যে কী ভাবে পুজো আয়োজন করা হবে তা নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক হয় মঠ কর্তৃপক্ষের। আর তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবার পুজোয় দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। মঠের তরফে জানানো হয়েছে, এবার ছোট আকারে পুজো হবে। কুমারী পজোর ক্ষেত্রেও অনেক নিয়ম মানা হবে। দূরত্ব বিধি মেনে চলা হবে।
মঠ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু কোনও দর্শনার্থী এবার মঠ চত্বরে প্রবেশ করতে পারবেন না, তাই এবার ভিতরে কোনও স্বেচ্ছাসেবক থাকবে না। কুমারী পুজোর ক্ষেত্রে কুমারীকে মন্দিরে নিয়ে আসার দায়িত্ব তার বাড়ির লোককেই নিতে হবে। সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারীরাই পুজোর সব ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু সবই সামাজিক দূরত্ব মেনে। এবছর প্রসাদ বিতরণও বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে মঠের তরফে।
প্রথমে মনে করা হয়েছিল, মূল মঠের বাইরে একটা জায়ান্ট স্ক্রিন করে পুজো দেখানো হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও অনেক ভিড় হতে পারে। তাই পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে সেই পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে। তার বদলে অনলাইনে দেখা যাবে পুজো। ইউটিউব চ্যানেল ‘belurmath.tv’তে পুজো সরাসরি দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে। দর্শনার্থীরা ঢুকতে না পারলেও অবশ্য পুজো দিয়ে যেতে পারবেন। তার জন্য একটি ক্যাম্প বানানো হয়েছে প্রধান গেটের বাঁ’দিকে।
করোনা সংক্রমণের জেরে বেশ কিছুদিন বেলুর মঠ বন্ধ থাকার পরে তা খুলে দেওয়া হয়েছিল দর্শকদের জন্য। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফের তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রয়েছে মঠ। নতুন করে নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত মঠের দরজা বন্ধ থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।