দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন দক্ষিণ মালদার সাংসদ তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আবু হাসেন খান চৌধুরী। হাসপাতালে ভর্তি তিনি। তাঁর অবস্থা সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাঁকে। তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, সপ্তাহ খানেক আগে করোনার উপসর্গ ধরা পড়ে আবু হাসেম খান চৌধুরীর শরীরে। তারপরেই কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। তারপরে তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই তাঁর অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে বলে জানা গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, কংগ্রেস সাংসদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা খুবই কমে গিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাঁর অক্সিজেনের দরকার। সেই কারণে হাইফ্লো-অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাঁকে। আবু হাসেমের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের একটি দল তৈরি করা হয়েছে। তাঁরাই কংগ্রেস সাংসদের দিকে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল। আবু হাসেমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
পিয়ারলেস হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডাক্তার সুদীপ্ত মিত্র জানিয়েছেন, “সাত দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। অবস্থা সংকটজনক। আইসিইউতে রাখা হয়েছে। কোভিডে আক্রান্ত তিনি। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কমে গিয়েছে। এখনও ভেন্টিলেটর সাপোর্টের দরকার হয়নি। দরকার হলে দেওয়া হবে।”
করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে সংক্রামিত হয়েছেন রাজ্যের একের পর এক নেতা-মন্ত্রীরা। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সাংসদ খলিলুর রহমান, মন্ত্রী তাপস রায়, জটু লাহিড়ী প্রমুখ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল ও সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়।
রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন বিধায়কের মৃত্যুও হয়েছে। মারা গিয়েছেন ইন্দাসের বিধায়ক গুরুপদ মেটে, পলতার তিনবারের বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ ও পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বিধায়ক সমরেশ দাস। তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষও ছিলেন তমোনাশ। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীও।