দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সরকারি নির্দেশিকায় বুড়ো আঙুল তাও আবার থানার নাকের ডগায়। একসঙ্গে সাত জনের বেশি লোক জমায়েত হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জনা পঁয়ত্রিশ লোককে একত্রে মাটি কাটতে দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি থানার গায়ে। তাঁরা সকলেই মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্পে (যা একশো দিনের কাজ বলে পরিচিত) কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন। এই দৃশ্য দেখার পরেই এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন।
বসিরহাট মহকুমায় সন্দেশখালি থানার বাউন্ডারি পাঁচিলের লাগোয়া অংশে একশো দিনের কাজের একটি প্রকল্পে সোমবার সকালে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ জনকে কাজ করতে দেখেন এলাকার লোকজন। তাঁরা স্থানীয় পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধানে মাটি কাটছিলেন বলে অভিযোগ। অন্য জায়াগার মতো এখানেও প্রশাসনের তরফে প্রচার করা হয়েছে করোনাভাইরাসের বিপদ কী এবং সংক্রমণ রুখতে কী পদক্ষেপ করা উচিত তা নিয়ে। তারপরেও কেন এখানে একসঙ্গে সাত জনের বেশি মানুষকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে তা নিয়ে এলাকার লোকজন প্রশ্ন তুলেছেন। থানার পাশেই এই কাজ করা হলেও পুলিশ কেন কিছু দেখতে পায়নি তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার মানুষজন। এলাকার লোকজন মনে করছেন যে এই ধরনের অসচেতনতার জন্যই করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “সরকারের নির্দেশ অনুসারে এক জায়গায় সাত জনের বেশি মানুষ থাকতে পারবেন না। সেখানে দাঁড়িয়ে যদি এইরকম কোনও ঘটনা ঘটে থাকে সেটা অনুচিত কাজ হয়েছে। আমি আরও বিশদ খোঁজখবর নিচ্ছি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনকে বলব বিষয়টি নজর দিতে।”
থানার পাঁচিল লাগোয়া অংশে কাজ হলেও তা কী ভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে গেল তা জানতে সন্দেশখালি থানায় যোগাযোগ করা হলে এব্যাপারে পুলিশ কোনও মন্তব্য করেনি।