দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: বিজেপির ধর্না কর্মসূচি ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল রায়গঞ্জ শহরে। কোভিড বিধি দেখিয়ে ধর্নামঞ্চ খুলে দেয় পুলিশ। তারপর রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় রায়গঞ্জে যেতেই পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসা হয়। এর পর রাজু-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।বিজেপির অভিযোগ, তারপর তাদের জেলা কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে পুলিশ।
হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের হত্যার সিবিআই তদন্ত ও চোপড়ার মধ্যমিক উত্তীর্ণ কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচারের দাবিতে রায়গঞ্জে শহরে গতকাল থেকে ধর্না শুরু করেছিল বিজেপি। গতকাল জেলার নেতারা থাকলেও এদিন যান রাজু। তার আগেই মঞ্চের ধাঁচা খুলিয়ে দেয় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে রাজু পৌঁছতেই উত্তেজনা বাড়ে। বিজেপি নেতাকে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোভিড বিধির মধ্যে মঞ্চ বেঁধে, রাস্তায় বসে এসব করা যাবে না। পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশে রাজু পাল্টা প্রশ্ন করেন, গতকাল ২১ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল মিটিং কী ভাবে রাস্তায় মঞ্চ বেঁধে দেখানো হল? তার বেলা আইন কোথায় ছিল? জবাবে পুলিশ অফিসারকে বলতে শোনা যায়, সেই কৈফিয়ত আপনাকে দেব না। পাল্টা কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে পুলিশকে রাজু বলেন, এখন কৈফিয়ত না দিলেও ছ'মাস পর আমাদেরই দিতে হবে। তখন কোনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাকে বাঁচাবে না।
রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা আপাতত দিল্লি গিয়েছেন। সপ্তাহভর সেখানে বৈঠক চলবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। যাওয়ার আগে বুধবার সকালেও চোপড়ার ঘটনা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মৃত কিশোরীর বাবা, দাদা-সহ পরিবারের চার জনকে গ্রেফতার করা নিয়ে প্রশাসনের সমালোচনা করেন তিনি।
চোপড়া কাণ্ড নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পরের দিন বাস, পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। তা নিয়ে গতকাল একুশে জুলাইয়ের সভাতেও বিজেপির বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, "কিছু লোকের কোনও কাজ নেই, শুধু রাস্তায় বসে পড়ছে।"
বুধবার সন্ধে ছ'টা পর্যন্ত খবর রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ গ্রেফতার হওয়া বিজেপির জেলা নেতাদের থানায় বসিয়ে রেখেছে পুলিশ।