দ্য ওয়াল ব্যুরো: এত দিন কয়লা পাচারের তদন্ত করছিল আয়কর দফতর। এবার সেই তদন্ত হাতে নিতে চলেছে সিবিআই। সূত্রের খবর, আয়কর দফতর এখনও পর্যন্ত যা তদন্ত করেছে সেই সমস্ত নথি চেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।
সিবিআই সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, কলকাতায় যে সিবিআই অফিসাররা সারদা তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদের দিল্লিতে ডাকা হয়েছে। সিবিআই সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন সিবিআই অফিসাররা। সব দেখে অনেকে মনে করছেন এবার এই তদন্তে নতুন গতি আসতে চলেছে।
সপ্তাহ দেড়েক আগে যখন অমিত শাহ বাংলায় এসেছিলেন সেই সময়েই আসানসোল, জামুড়িয়া, রানিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় কয়লা পাচারের তদন্তে জায়গায় জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইনকাম ট্যাক্স। সেই সময়েও এই অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, কী প্ল্যানিং, বাপরে বাপ!" পাল্টা অমিত শাহ বলেছিলেন, "কয়লা বিক্রির টাকার অংশ তো রাজ্য সরকারের কোষাগারেও আসে। চোর ধরলে মমতাদিদির এত রাগ হচ্ছে কেন?"
ইতিমধ্যেই জানা গেছে তদন্তকারীদের আতস কাচের নীচে রয়েছে আসানসোল এলাকার এক ব্যবসায়ী। তাঁর নাম অনুপ মাঝি ওরফে লালা। বাঁকুড়ার আর একজনও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন বলে খবর। বিরোধীদের বক্তব্য, এই দুজনই শাসকদলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সিবিআই মনে করছে কয়লা নিয়ে যে কোটি কোটি টাকার কারবার হয়েছে তার শিকড় অনেক গভীরে। পূর্ব এশিয়ার একটি দেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও টাকা গিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
যে সময়ে কয়লা মামলার তদন্তে তল্লাশি চলেছিল পশ্চিম বর্ধমানে সেই একই সময় কলকাতা, মালদহ, মুর্শিদাবাদে গরু পাচারের তদন্তে নেমেছিল সিবিআই। তারপর গরু পাচারে মূল অভিযুক্ত এনামুলকে গ্রেফতার করে তদন্ত এজেন্সি। জামিন পেলেও গত সপ্তাহে নিজাম প্যালেসে ডেকে এনামুলকে জেরা করেন সিবিআই আধিকারিকরা। হতে পারে সিবিআই মনে করছে কয়লা এবং গরু পাচার এবং পাচারকারীদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। সারদা তথা চিটফান্ড মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বারবার সিবিআই বলেছে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা। হয়তো সেই কারণেই সারদা মালার অফিসারদের দিল্লিতে তলব করেছেন সিবিআইয়ের বড় কর্তারা।