দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনলক ওয়ান পর্যায়ের গোড়ায় বাস চালানো শুরু করলেও টানা লোকসান হওয়ায় তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল নাগেরবাজারের দু’টি বাস ইউনিয়ন। এর ফলে শনিবার থেকে তিনটি রুটে বাস কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও যাত্রীরা মনে করছেন সব রুটে বাস বন্ধ করে দেওয়ার এটাই প্রথম ধাপ।
নাগেরবাজারের বাস মালিকদের তিনটি সিন্ডিকেট আছে। একটি বিজেপি, একটি সিপিএম এবং একটি তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত। এর মধ্যে বিজেপি ও সিপিএম সমর্থিত সিন্ডিকেটের মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শনিবার থেকে বাস না চালানোর। ২০২ (নাগেরবাজার থেকে সায়েন্স সিটি), নাগেরবাজার থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত মিনিবাস এবং ৩সি/১ (নাগেরবাজার থেকে আনন্দপুর) রুটের বেশির ভাগ বাসের মালিক বিজেপি ও সিপিএম সমর্থিত সিন্ডিকেটের সদস্য। তাই এই তিনটি রুটের বেশির ভাগ বাস চলবে না শনিবার থেকে। এই তিনটি রুটে যে হাতেগোনা কয়েকটি বাস তৃণমূল সমর্থিত মালিকদের হওয়ায় সেগুলি চলার কথা। তবে বন্ধ বাসের চালক ও কন্ডাক্টররা বাধা দিলে তৃণমূল সমর্থিত সিন্ডিকেটের মালিকরা বাস বন্ধ রাখবেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।
সিপিএম ও বিজেপি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত মালিকদের বক্তব্য, বাস চালিয়ে তাঁরা জ্বালানি তেলের দামটুকুও তাঁরা তুলতে পারছেন না। এমনিতে তেলের দাম বেড়ে চলেছে কিন্তু আনলক ওয়ান চালু হওয়ার পরে ভাড়া বাড়ছে না। তার উপরে আবার নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি যাত্রীও তাঁরা তুলতে পারছেন না। এই অবস্থায় সারাদিন বাস চালিয়ে তেলের খরচা তোলাও তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরদের প্রাপ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না মালিকদের পক্ষে। সেই কারণেই তাঁরা বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাজ্যের শাসক দল হওয়ায় তৃণমূল সমর্থিত সিন্ডিকেটের পক্ষে অবশ্য এখনই বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
নাগেরবাজার থেকে বারাসত, ধর্মতলা-বাবুঘাট, গড়িয়া, সেক্টর ৫-নিউটাউন প্রভৃতি রুটে হাতেগোনা বাস বন্ধ হবে। হাওড়া রুটে মিনিবাস ছাড়া অন্য বাস আপাতত চলবে তবে কত দিন তা চালু থাকবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। এক কথায় শনিবার থেকে যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
আনলক পর্যায় চালু হয়ে গেলেও এখনও লোকাল ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। তা ছাড়া ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করেছে অনেক সংস্থা। স্কুল-কলেজ বন্ধ। লোকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এখও বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না। এই অবস্থায় বাসে এখনই যাত্রী বাড়ার সম্ভাবনাও তেমন নেই বলে মনে করছেন মালিকরা। যাত্রীরা মনে করছেন ভাড়া বাড়লে তখনই ফের বাস চালাবেন মালিকরা।