দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: পশ্চিম বধর্মানে ক্রমেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার্সের সঙ্গে যুক্তদের বাড়ির লোকজন।
আসানসোল জেলা হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার্সের আরও তিন জন বাসিন্দার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তাতেই উদ্বেগ বাড়ছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের। স্টাফ কোয়ার্টার্সের অন্য বাসিন্দারাও এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
আগেই জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের এক কর্মীর পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরে তাঁর স্ত্রী, তাঁর শাশুড়ি এবং শ্যালকের সোয়াব পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে স্টাফ কোয়ার্টার্স থেকে আরও এক মহিলার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তাঁদের পাঁচ জনকেই সনকা হাসপাতালে পাঠানো ভর্তি করা হয়। রবিবার আক্রান্তদের পরিবারের এক জন করে তিন জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এলে দেখা যায় তাঁরাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তখন তাঁদেরও সনকায় পাঠানো হয়।
হীরাপুর থানার সাঁতাডাঙার সারদাপল্লির বাসিন্দা ৫০ বছরের গৌরাঙ্গ ভুঁই শারীরিক ভাবে অসুস্থ বোধ করায় শনিবার আসানসোল জেলা হাসপাতালে যান। কোভিড পরীক্ষা করার জন্য লালারসের নমুনা দেন। পরে বাড়ি ফিরে আসেন। রবিবার দুপুরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ইতিমধ্যেই সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাই নিয়মমাফিক পুলিশ তাঁর দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যায়।
আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার-সহ জেলায় বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী করোনা পজিটিভ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরে। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অনেকে আক্রান্ত হতে শুরু করায় জেলা স্বাস্থ্য দফতরেও উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ঠিক মতো চালু রাখার জন্য এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত লোকজনের সুস্থ থাকা জরুরি। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য দরকার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত সকলের সুস্থ থাকা। এই দুই বিভাগে করোনার সংক্রমণ ঘটতে শুরু করায় জেলা প্রশাসনে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক।
রাজ্য সরকারের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিম বর্ধমানে নতুন করে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৪৫। এখনও পর্যন্ত জেলায় মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। নতুন করে ১৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ফলে পশ্চিম বর্ধমানে এ পর্যন্ত করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩০৫ জন। কোভিড পজিটিভের সংখ্যা ৩৩২।