দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসানসোলের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া গাড়ুই নদী সংস্কারের দাবি করল কংগ্রেস। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডী বলেন, “আসানসোল শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গাড়ুই নদীর জলে প্রত্যেক বছর বর্ষার সময় বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। প্রতি বছর বর্ষায় এলাকা জলমগ্ন হলে প্রশাসন গাড়ুই নদীর সংস্কারের কথা বলে। তারপরে বর্ষা চলে গেলে সে ব্যাপারে আর কোনও কথা বলে না। আসানসোলের মেয়রের কাছে আমাদের দাবি, গাড়ুই নদী দখলমুক্ত করে ও সংস্কার করে পুরনো চেহারা ফিরিয়ে দিতে হবে।”
গাড়ুই নদীর নোংরা জলে প্রতি বছর প্রাচীন ঘাঘরবুড়ি মন্দির প্লাবিত হয়ে যায় বলেও তিনি জানান। তা ছাড়া প্রতিবছর বর্ষা এলে আসানসোলের রেলপার অঞ্চলে গাড়ুইর নদীর আশপাশে যাঁরা বসবাস করেন তাঁদের ঘরবাড়ি বন্যায় ভেসে যায়।
আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা দেখছিলাম যে আসানসোলের উত্তর দিকে বর্ষার সময় বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। এ বছর যাতে তা না হয় সে জন্য আগে থেকে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। আসানসোল পুরনিগম, জেলা প্রশাসন এবং সেচ দফতর মিলিত ভাবে এই কাজ করতে শুরু করেছি। আমরা গাড়ুই নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে এই কাজ যদি ঠিক মতো আমরা করে ফেলতে পারি তা হলে এবছর ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও যে পরিমাণে ক্ষতি হত মানুষের সেই ক্ষতি আর হবে না।”
বাস্তবে গাড়ুই একটি নদী হলেও এখন সেটি নোংরা নালার রূপ নিয়েছে। নালাটি কালো জলে ভরা। এই নদীর মজে যাওয়া অংশ দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক জায়গাতেই তার গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বাড়ি ও দোকানপাট। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণ ডাঙাল আর তরী মহল্লার মাঝে নদীর উপরে একটি সেতুও আছে৷ সেই সেতুটি খুব ভাল অবস্থায় আছে একথা বলা যায় না। এর আশপাশেও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ বহু পুরনো।
কংগ্রেস দাবি করেছে, বিভিন্ন সময়ে নদীর মজে যাওয়া অংশে যে সব নির্মাণ হয়েছে তা অবিলম্বে দখলমুক্ত করা হোক। কসাইমহল্লা থেকে ধাদকা ব্রিজ পর্যন্ত ২ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় গাড়ুই নদীর দু’পাশ জুড়ে অন্তত চল্লিশ থেকে মিটার পর্যন্ত দখল দখল করে দশকের পর দশক অবৈধ নির্মাণ হয়েছে৷ নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় এবং আবর্জনা জমে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই নদী উপচে পড়ে। গত তিন দশক ধরে এই নদীর জলে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।