দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারদা কাণ্ডে জেরার জন্য কুণাল ঘোষকে ফের তলব করল সিবিআই। সূত্রের খবর, সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে সিবিআই।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়েছিল তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কুণাল ঘোষকে। তাঁকে জেরাও করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
সারদা গোষ্ঠীর মিডিয়া সেক্টরের মাথা ছিলেন এই কুণাল ঘোষ। খবরের কাগজ থেকে টিভি চ্যানেল সর্বত্রই তিনিই ছিলেন শেষ কথা। চিটফান্ড কাণ্ডে বেশ কিছুদিন জেলও খেটেছেন তিনি। তবে আপাতত তিনি শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্ত। কিন্তু তিন সপ্তাহের মাথাতেই ফের তাঁর ডাক পড়েছে সিবিআই দফতরে।
৩ তারিখ সিবিআই তলবের দিন দুই আগেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন কুণাল ঘোষ। মুখ খুলেছিলেন এক সময়ের বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান তথা বর্তমান মালদার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে। পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন নিয়ে মানিকচকের হিংসাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দেন কুণাল। বলেন, “কে মারছে, কাকে মারছে এগুলি রাজনৈতিক চাপানউতোরের বিষয়। কিন্তু অস্ত্র এল কোথা থেকে? পুলিশ কি আঙুল চুষছিল? মানিকচকে ধারাবাহিক হিংসা চলছে। এত অস্ত্র। কেন অর্ণব ঘোষকে বেঁধে রাখা হবে না? কেন অর্ণব ঘোষের মেডেল খুলে নেওয়া হবে না।” প্রসঙ্গত, সারদা কাণ্ডেও নাম জড়িয়েছিল এই অর্ণব ঘোষের। সিবিআইকে তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কাকতালীয় হলেও এটা সত্যি, যে অর্ণবের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ৭২ ঘণ্টা পেরনোর আগেই সিবিআই ডেকে পাঠায় কুণালকে।
এ দিকে রাজ্যের শাসক দলের নেতারা প্রায়ই বলেন, ভোট এগিয়ে এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সিবিআই, ইডি’র মতো সংস্থা। ইতিমধ্যেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকেও সিবিআই তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে। শাসক দলের অনেকেরই আশঙ্কা, ২০১৯-এর ভোট যত এগিয়ে আসবে ততই বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে লেলিয়ে দেবে। ৩ সেপ্টেম্বরের পর সিবিআই দফতরে ফের কুণাল ঘোষকে তলবের ঘটনায় শাসক দলের আশঙ্কা বেশ কয়েক গুণ বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।