দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: অবশেষে পরিবারের ডাকে সাড়া দিয়ে গুলি চালানো বন্ধ করে দোতলা থেকে নীচে নামলেন ঝাড়গ্রাম পুলিশলাইনের কনস্টেবল বিনোদকুমার। টানা সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ন’টা দশ মিনিটে তিনি নেমে আসেন বলে জানা গেছে। দুপুর থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন জেলার এসপি অমিতকুমার ভরত রাঠোর। সন্ধে নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন বাঁকুড়া রেঞ্জের আইজি আর রাজশেখরনও। তাঁরা বারবার আবেদন করলেও গুলি চালানো বন্ধ করেননি ওই পুলিশকর্মী।
এরপরেই পুরুলিয়ার কোটশিলা থেকে ঝাড়গ্রাম পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয় বিনোদকুমারের স্ত্রী সুমাকুমারী, এবং তাঁর বাবা ও ভাইকে। তাঁরাও বারবার নেমে আসার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকেন। কিন্তু কোনও অনুরোধ-আবেদনেই কাজ হচ্ছে না দেখে, কী করে ওই জুনিয়র কনস্টেবলকে বাগে আনা যাবে তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যায় পুলিশ। শেষপর্যন্ত পরিবারের আবেদনে সাড়া দেন তিনি।
এ দিন দুপুর একটা ৪০ মিনিট নাগাদ পুলিশলাইনের দোতলায় আর্মারি সেকশনের সামনে কর্তব্যরত অবস্থা্য় গুলি চালাতে শুরু করেন ওই পুলিশকর্মী। তবে গুলিতে কেউ হতাহত হননি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ঝাড়গ্রাম থানা থেকে ডিয়ারপার্ক সংলগ্ন নতুন পুলিশলাইনে বদলি হন তিনি। এ দিন বেলা ১১টার সময় কাজে যোগ দিতে এসেছিলেন। হঠাৎ বেলা ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ পরপর গুলির শব্দ শুনে সচকিত হয়ে ওঠে গোটা পুলিশ লাইন। শুরু হয়ে যায় ছোটাছুটি। দেখা যায় গুলি চলছে দোতলা থেকে।
এরপরেই পদস্থ পুলিশকর্তারা মাইক নিয়ে বারবার করে ওই জুনিয়র কনস্টেবলকে গুলি চালানো বন্ধ করে নীচে নেমে আসার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাতই করেননি তিনি। রাস্তার দিকে নিজের এসএলআর বন্দুকটি তাক করে সমানে গুলি ছুড়তে থাকেন। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় গোটা এলাকায়। লকডাউনের জন্য রাস্তাঘাট ফাঁকা। তবুও ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ডিয়ারপার্কের দিকে যাওয়ার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিরাট বাহিনী ঘিরে ফেলে গোটা এলাকা।
কী কারণে ওই পুলিশকর্মী এমন ঘটনা ঘটালেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশকর্তারা। জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার ভরত রাঠোর বলেন, “বিনোদ কুমার নামে একজন জুনিয়র কনস্টেবল আছেন। ওঁর একটু হ্যালুসিনেশন হয়েছিল। তার জন্য ফায়ারিং করেছে। কথাবার্তা বলে ওঁকে নামানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত করে দেখছি।”