একটা সংখ্যালঘু ছেলে মারা গেল, দায় মুখ্যমন্ত্রীর, সুজনবাবুকে বলেছি পাশে আছি: রাজীব
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠিতে জখম বাম যুব নেতা মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির সভা মঞ্চ থেকে প্রাক্তন বনমন্ত্রী বলেন, “একটা সংখ্যালঘু স
শেষ আপডেট: 15 February 2021 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠিতে জখম বাম যুব নেতা মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির সভা মঞ্চ থেকে প্রাক্তন বনমন্ত্রী বলেন, “একটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছেলে মারা গেল। এর সমস্ত দায় মুখ্যমন্ত্রীর।”
রাজীব বলেন, তিনি বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীকে ফোন করে বলেছেন, “আপনাদের পাশে রয়েছি। এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।” রাজীব এদিন আরও বলেন, “সকালবেলাই এমন একটা খবর আজ শুনেছি যাতে আমি অত্যন্ত বেদনাহত। গণতন্ত্রে যে যেকোনও দল করতে পারেন। তাই বলে এই ভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ পেটাবে?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী থাকার সময়ে জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধে বারবার বর্বরোচিত হামলা, আক্রমণের অভিযোগ তুলতেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে নব্য বিজেপি নেতা বলেন, “সেদিন তিনি রাস্তায় নামতেন। আন্দোলন করতেন। আর আজকে নীরব। মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আর এক মুহূর্ত গদিতে থাকা উচিত নয়।”
বাম সরকারের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোয়াপাধ্যায়ের ক্লান্তিহীন আন্দোলন বাংলার রাজনীতিতে অবিসংবাদী হয়ে থাকবে। যুব কংগ্রেস সভানেত্রী থাকাকালীন একুশে জুলাইয়ের ঘটনাও রাজ্য রাজনীতিতে এক রক্তাক্ত ইতিহাস। প্রতিবছর শহিদ দিবস পালন করে তৃণমূল। তা ছাড়া লালগড় ও জঙ্গলমহলে পুলিশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দিদির সরব হওয়া, যৌথবাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল করে দেওয়াও টাটকা। অনেকের মতে, রাজীব এদিন বোঝাতে চেয়েছেন, বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন মমতার ভাষা ছিল এক রকম। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনিও এখন শাসকের মতোই। গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করাই যাঁর এক এবং একমাত্র লক্ষ্য।
যদিও রাজীব এদিন দলীয় সভা থেকে যে ভাবে বাম কর্মীর মৃত্যু নিয়ে সরব হয়েছেন তা দেখে অনেকেই বলছেন, এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার। অনেকে আবার এও বলছেন, দু’মাস আগে বিজেপি যুব মোর্চার উত্তরকন্যা অভিযানে নিহত বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের মৃত্যুর সময় বামেদের এ ভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায়নি।
আবার পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজনীতিতে নেতানেত্রীরা যা বলেন বা করেন তার পিছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। লোকসভা ভোটে দেখা গিয়েছিল বামেদের ভোট উজাড় হয়ে বিজেপির বাক্সে ঢেলে পড়েছে। এদিন হয়তো সেসব ভেবেই রাজীব বামেদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারণ দুয়ারে বিধানসভা ভোট।