ঝাড়গ্রামে করোনার জেরে ১০ অগস্ট পর্যন্ত বন্ধ জুবিলি মার্কেট, শুরু স্যানিটাইজ করা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: বেশ কিছু দিন ধরেই সংখ্যাটা ২৮-এই আটকে ছিল। আচমকাই সেই ঝাড়গ্রাম জেলাতেও এখন বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি ফের নিয়ন্ত্রণে আনতে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুর দুটো নাগাদ কন্টেনম
শেষ আপডেট: 4 August 2020 09:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: বেশ কিছু দিন ধরেই সংখ্যাটা ২৮-এই আটকে ছিল। আচমকাই সেই ঝাড়গ্রাম জেলাতেও এখন বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি ফের নিয়ন্ত্রণে আনতে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুর দুটো নাগাদ কন্টেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হয় ঝাড়গ্রামের জুবিলি মার্কেটকে। তখনই ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক সুবর্ণ রায় ঝাড়গ্রাম শহরের সব চেয়ে বড় বাজার জুবিলি মার্কেটের সব দোকান বন্ধ করে সাময়িক ভাবে তা সিল করে দেওয়ার কথা জানান। এখনও সেই কাজ চলছে। এই মার্কেটের মধ্যে নতুন করে করোনা পজিটিভের হদিস পাওয়ার পরেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ। আজ ৪ অগস্ট থেকে ১০ অগস্ট পর্যন্ত এই বাজার বন্ধ থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
১ অগস্ট দুজন, ২ অগস্ট দুজন এবং ৩ অগস্ট চার জন করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে জেলায়। এত দিন পর্যন্ত জেলায় কোনও কন্টেনমেন্ট জোন ছিল না। মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ হঠাৎই মহকুমাশাসক, পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার ও ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশের বৈঠকের পরে জুবিলি মার্কেটকে কন্টেনমেন্ট জোন বলে ঘোষণা করা হয়।
বুধবার রাজ্যে লকডাউন তাই বাজারে সকাল থেকে ভিড় বেশিই ছিল এদিন। এই অবস্থায় মহকুমাশাসক বাজার বন্ধ করে দেন। একের পর এক দোকান বন্ধ করে দিতে শুরু করে পুলিশ। বন ও সহায়ক পদে আবেদন করার জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এদিন আবেদনকারীরা বন দফতরের অফিসে এসেছিলেন। তাঁরা ডিএফও অফিসে ফর্ম জমা করে দুপুরে হোটেলে খাচ্ছিলেন। তার মধ্যেই হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেকে খাবার ছেড়ে উঠে পড়তে বাধ্য হন। প্রদীপ দত্ত নামে এক হোটেল মালিক বলেন, “আমরা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অল্প খাবার করেছিলাম। কিন্তু তাও সে সব নষ্ট হল। আগে থেকে বললে আমরা এত খাবার বানাতাম না।”
[caption id="attachment_246777" align="aligncenter" width="1032"]

বাজার বন্ধ করে শুরু স্যানিটাইজ করা।[/caption]
জুবিলি মার্কেটের পাশেই মাছের বাজার ও সবজি বাজার। রয়েছে কোর্ট বাজারও। সুভাষ পার্ক সংলগ্ন এলাকা এবং ঝাড়গ্রাম ফ্লাইওভারের নীচেও অনেক দোকান রয়েছে। সব দোকানই বন্ধ করে দেওয়া হয়। দমকল বাহিনীর সাহায্যে এই সব জায়গা স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।
ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক সুবর্ণ রায় বলেন, “আমাদের জেলাশাসক এই এলাকাকে কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করেছেন। এখানে কোনও গাড়িও চলবে না। লোকও আসবেন না। ১০ অগস্ট পর্যন্ত তা চলবে।”
রাজ্যের অন্য জায়গায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও ঝাড়গ্রামে বেশ কিছু দিন এই সংখ্যা ২৮-এ আটকে ছিল। ১৫ জুলাইয়ের পর থেকে দীর্ঘ দিন এখানে নতুন করে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। তবে গত তিন দিনে সেখানে নতুন করে আট জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৩৬। তাতেই উদ্বিগ্ন প্রশাসন।