দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়নি গুজরাত সরকার। তাই সাইকেলে ১৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফিরবেন বলে ঠিক করেন ১৪ জন শ্রমিক। পরিবারের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা চেয়ে নিয়ে তাঁরা নতুন সাইকেল কিনে ফেলেন। ঝাড়গ্রামে এসে পৌঁছতেই বাসে করে তাঁদের বাকি পথ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করে দেয় জেলা প্রশাসন।
১৬ দিন আগে এই শ্রমিকরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রবিবার দুপুরে বাংলা সীমানায় পা রাখেন তাঁরা। ঝাড়গ্রাম জেলার চিঁচিঁড়া চেকপোস্ট পেরিয়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর মোহনপুর গ্রাম সংলগ্ন একটি আম গাছের তলায় বসে মুড়ি খাচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে ফিরছিলেন ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানি। গাড়ি থামিয়ে জানতে চান তাঁরা কোথা থেকে আসছেন এবং কোথায় যাবেন। তাঁদের কাছে পুরো ঘটনা জানার পরে জেলাশাসক তাঁদের লোধাশুলির একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যান এবং তাঁদের স্নান ও খাবারের বন্দোবস্ত করেন। তাঁদের প্রত্যেককে নতুন জামা-কাপড় দেন।
গুজরাত থেকে ফেরা শ্রমিক বলরাম মণ্ডল বলেন, “গুজরাতের একটি কারখানায় আমরা কেউ এক বছর ধরে আবার কেউ মাস ছয়েক ধরে কাজ করছি। হঠাৎ লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হাতে যেটুকু জমানো টাকা ছিল তা শেষ হয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা চেয়ে আমরা এক এক জন ৪০০০ টাকা দামের সাইকেল কিনি। সেই সাইকেল চড়েই আজ থেকে ১৬ দিন আগে আমরা গুজরাত থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীশগঢ়, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড হয়ে আমরা আজ ১৭ দিনের মাথায় ঝাড়গ্রামে এলাম। আমরা ভেবেছিলাম যেটুকু পথ বাকি আছে তা আমাদের সাইকেলেই যেতে হবে তবে হঠাৎই এখানকার জেলাশাসক আমাদের দেখে যেভাবে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলেন তাতে আমরা খুবই খুশি। রাস্তায় আসার পথে নানা জায়গায় পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আজ আমরা ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের জন্য বাড়ি ফিরতে পারছি।” আর এক শ্রমিক লক্ষ্মণ জানা গুজরাত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বলেন, “ওখানকার জেলাশাসকের কাছে বাড়ি ফেরার জন্য বহুবার আবেদন করেছি কিন্তু অনুমতি পাইনি। এছাড়া বাড়ি ফেরার জন্য স্থানীয় এক পঞ্চায়েতে প্রত্যেক ১৯০০ টাকা করে দিয়েছিলাম ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য কিন্তু না টিকিট পেয়েছি না টাকা ফেরত পেয়েছি। অন্য কোনও উপায় না দেখে সাইকেলে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিই।”
এদিন সন্ধ্যায় এই ১৪ জন শ্রমিককে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন একটি বাসের বন্দোবস্ত করে। বাসের ছাদে তাঁদের সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় শুকনো খাবার ও জলের পাউচ।