সন্দেশখালিতে উমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে সংঘর্ষ, মহিলা-শিশুসহ আহত ১২ জন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসিরহাট মহকুমার ন্যাজাট থানা এলাকায় উমফানের দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে অন্তত বারো জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও শিশুও রয়েছে। এই ঘটনায় দুই রাজনৈতিক দলই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে।
বিজেপির অভি
শেষ আপডেট: 27 June 2020 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসিরহাট মহকুমার ন্যাজাট থানা এলাকায় উমফানের দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে অন্তত বারো জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও শিশুও রয়েছে। এই ঘটনায় দুই রাজনৈতিক দলই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, সন্দেশখালি ১ নম্বর বিডিও অফিসে উমফানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা নাম জমা দিয়ে এসেছিলেন। সেকথা জানতে পেরে সন্দেশখালি এক নম্বর ব্লকের হাটগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ নম্বর ঘেরি এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপরে চড়াও হয় তৃণমূলের কর্মীরা। শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ বাঁশ লাঠি লোহার রড প্রভৃতি নিয়ে তারা অতর্কিত হামলা করে। এই ঘটনার জেরে শনিবার সকাল আটটা নাগাদ দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। মহিলারা প্রতিবাদ করতে এলে তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির। সব মিলিয়ে আহত হন মহিলা ও শিশু সমেত বারো জন।
আহত কেষ্ট কুর্মি বলেন, “আমি বিজেপিকে সমর্থন করি কিন্তু কোনও মিটিং-মিছিলে যাই না। আমি বাজারে আলু কিনতে গিয়েছিলাম তখন কয়েক জন তৃণমূলের ছেলে বলল ওকে মার। তখন ওরা এসে আমাকে মারতে শুরু করল।” আহত এক ব্যক্তির মা গীতা কুর্মি বলেন, “আমার ছেলে মিটিং-মিছিল কিছু করে না। তৃণমূলের ছেলেরা বলছিল বিজেপি করলে আমাদের বসবাস তুলে দেবে। আমার ছেলেকে ওরা শাবল দিয়ে মেরেছে।”

বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় পাল বলেন, “আমাদের দলের কর্মীরা উমফানের ক্ষতিপূরণের জন্য বিডিও অফিসে গিয়ে নাম জমা দিয়ে আসে। সেকথা জানতে পেরে তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের উপরে চড়াও হয়। মহিলাদের শ্লীলতাহানিও করে।”
সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, “গতকাল আমাদের উপপ্রধান যখন আসছিলেন তখন বিজেপির কয়েক জন কর্মী আমাদের উপপ্রধান-সহ কয়েক জনের উপরে হামলা করে। তাতে আমাদের পাঁচ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আমরা মনে করি যে উমফানের পরে আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েত সুষ্ঠু ভাবে যে তালিকা তৈরি করেছে তাতে সমস্ত দলের কর্মীদের নাম আছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সবার নাম আছে। তা সত্ত্বেও মিথ্যা কথা বলে ও গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এরা ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে সমাজবিরোধীদের জড়ো করে এরা বিভিন্ন ভাবে হামলা করছে।”
আহত বারো জনকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’পক্ষই ন্যাজাট থানায় পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে তারা তদন্ত শুরু করেছে।