দ্য ওয়াল ব্যুরো: জয় শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে ফের উত্তেজনা। এ বার খোদ মুকুল রায়ের খাসতালুক কাঁচড়াপাড়ায়। নামল র্যাফ। হল লাঠিচার্জও।
শনিবার সকালেই জগদ্দলের কাউগাছি পঞ্চায়েতের ২৪ জন সদস্যের সবাই যোগ দিয়ে দিয়েছেন বিজেপি-তে। কাল পর্যন্ত যা ছিল জোড়া ফুলের, রাত পোহাতেই সেই পঞ্চায়েত চলে গিয়েছে পদ্মশিবিরের দখলে। এরই মধ্যে জগদ্দলের তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুকুমার চক্রবর্তীও গেরুয়া শিবিরে ভিড়ে গিয়েছেন। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ঠিক হয় জেলার শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন কাঁচড়াপাড়ার এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, সুজিত বসু, বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তৃণমূল নেতা মদন মিত্ররা একে একে আসতে শুরু করেন ওই নেতার বাড়িতে।
খবর পেয়েই রাস্তায় জমায়েত করে বিজেপি। তৃণমূল নেতাদের রাস্তা আটকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। মন্ত্রীদের রাস্তা আটকানোয় লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ । আসে র্যাফ। কাঁচড়াপাড়ার ব্যস্ততম রাস্তা কেজিআর পথ রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বন্ধ হতে শুরু করে দোকানপাট। প্রায় বিকেল পর্যন্ত তৃণমূলের নেতামন্ত্রীদের আটকে থাকতে হয় ওই বাড়িতে। কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশের ঘেরাটোপে একে একে বেরিয়ে যান জ্যোতিপ্রিয়, মদন, তাপস, নির্মলরা।
ভাটপাড়া পুরসভা আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এ বার যেতে শুরু করেছে লাগোয়া পঞ্চায়েত। তৃণমূল সূত্রের খবর, যে পঞ্চায়েতগুলি এখনও তাঁদের দখলে রয়েছে সেগুলি কী ভাবে রক্ষা করা যায়, তার পরিকল্পনা করতেই আজকের এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভাটপাড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের সামনে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। দু’জায়গায় তিনবার গাড়ি থেকে নেমে পড়েছিলেন দিদি। ওই ঘটনায় শুক্রবার দশ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। শনিবার সেই জয় শ্রীরাম ইস্যুতেই উত্তপ্ত হল কাঁচড়াপাড়া। এখন দেখার কখন নেতারা ওই বাড়ি থেকে বের হতে পারেন, কতক্ষণই বা জমায়েত করে রাখে বিজেপি।