
শেষ আপডেট: 13 September 2021 10:39
তৃতীয় ঢেউ নিয়ে চিন্তা কেন বাড়ছে
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের মিউটেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে। আসলে করোনাভাইরাস নতুন নয়, আগেও ছিল। সর্দি-কাশির মতো রোগ হত এই ভাইরাসের কয়েকটি প্রজাতির সংক্রমণে। এখন যে সার্স-কভ-২ ছড়িয়েছে বিশ্বে তাতে মিউটেশন বা জিনগত বদলটা ঘন ঘন হচ্ছে। সেই কারণেই ভাইরাসের এত নতুন প্রজাতি আসছে, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ঢেউ আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিশ্বের কিছু দেশ কিন্তু এখনই কোভিডের কয়েকটা ঢেউ পার করে ফেলেছে। প্রতিটা ঢেউয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কমতে থাকে। দুর্বল হতে থাকে ভাইরাল স্ট্রেন। তাই ডেল্টা প্লাস ভাইরাসের মিউটেশন হলেও সেটা লাগামছাড়া হবে না বলেই আশা করা যায়। যদি কোনওভাবে এই তৃতীয় ঢেউ মারাত্মক বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ে, মৃত্যুহার ভয়ানকভাবে বাড়ে, তাহলে বুঝতে হবে ভাইরাস ফের তার রূপ বদলে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই করোনার ডেল্টার মতোই অতি সংক্রামত ল্যামডা প্রজাতিও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তার পর মানুষজন কোভিড বিধি মানছেন না ঠিক করে, তাই তৃতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে। শিশুদের টিকাকরণ যেহেতু শুরুই হয়নি, তাই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশিষ্ট হার্ট সার্জন দেবী শেঠিও একই সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন যে, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আদৌ যদি আসে, তা হলে সবথেকে বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে শিশুদের। যাদের বয়স ২ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত।
পুজোর সময়েই আসছে তৃতীয় ঢেউ, কী ব্যবস্থা নিয়েছে নবান্ন
রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, টিকাকরণের গতি বাড়াতে হবে। রাজ্যের বস্তি এলাকাগুলিতে টিকাকরণের গতি কম। সেসব জায়গায় কোভিড বিধিও মানা হচ্ছে না। এই ব্যাপারে জেলাশাসকদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ফেস-মাস্ক বাধ্যতামূলক। যে কোনও রকম ভিড়, জমায়েত নিয়ন্ত্রণের জন্য নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে দ্রুত। মাস্ক না পারলে ফাইন দিতে হবে।
লকডাউনের রাশ শিথিল হওয়ার পরেই পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড় বেড়েছে। দর্শনীয় স্থানগুলিতে কোভিডের বিধিনিষেধ বাড়ানো হচ্ছে। দিঘা, দার্জিলিং ইত্যাদি পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে হোটেল বা হোম স্টে-তে কোভিড বিধি আরও কড়া করা হবে।
কোভিডে মৃত্যু হলে কী কারণে হয়েছে তা বিশ্লেষণ করতে হবে। মৃত্যুহার কমানোর চেষ্টা করতে হবে।
বাজার কমিটিগুলিতে কোভিড সচেতনতার কাজে লাগাতে হবে। আইসিডিএস ও এসএইচজি মহিলা কর্মীদের সচেতনতার প্রচারের কাজে নিয়োগ করতে হবে।
কোভিড সচেতনতার জন্য চেম্বার অব কমার্সের সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভলান্টিয়ারদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে কোভিড গাইডলাইনের গুরুত্ব বোঝাতে হবে।