
শেষ আপডেট: 29 August 2020 06:05
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান (২১ অগস্ট)[/caption]
এবার রাজ্যের পরিসংখ্যানের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক। ২৮ অগস্ট, শুক্রবার স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে একদিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪২ হাজার ১২১ জনের। এখনও পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৮ জনের। অর্থাৎ এই মুহূর্তে রাজ্যে নমুনা পরীক্ষার নিরিখে আক্রান্ত হওয়ার হার বা পজিটিভিটি রেট ৮.৭৪ শতাংশ। এই মুহূর্তে ৭০টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে রাজ্যে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বারবার বলেছেন, রাজ্যে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন তা বাড়ানো হচ্ছে। আর এই নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ার জন্যই রাজ্যে এই মুহূর্তে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে সেইসঙ্গে সুস্থতার সংখ্যাও বাড়ছে রাজ্যে। পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আগে ল্যাবরেটরির সংখ্যা খুব কম ছিল। এখন সেটা বাড়িয়ে ৭০ করা হয়েছে। আরও কিছু ল্যাব আগামী দিনে বাড়বে। আমরা আরটি-পিসিআর মেশিনেরও বরাত দিয়েছি। ১ অগস্ট নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ২০ হাজার ৬৫ জনের। মাসের শেষ তা দ্বিগুণের থেকেও বেশি বেড়েছে।”
এর মধ্যে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনও বিনামূল্যে অ্যান্টিজেন টেস্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোনও আবাসনে যদি ২০ জনের বেশি আবেদন করেন তাহলে সেখানে পুরসভার কর্মীরা গিয়ে অ্যান্টিজেন টেস্ট করে আসছেন। এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।
কিন্তু এখনও অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় নমুনা পরীক্ষার হিসেবে পিছিয়ে রয়েছে বাংলা। কেন্দ্রের তথ্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গড় তো বটেই, মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাতেও বাংলার থেকে এগিয়ে রয়েছে বিহার (২৭ অগস্ট পর্যন্ত মোট ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ১৬০ জনের পরীক্ষা)। ওড়িশায় মোট সংখ্যা বাংলার থেকে কম হলেও (২৭ অগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৭ জনের পরীক্ষা) সেখানকার জনসংখ্যাও বাংলার থেকে অনেক কম।
নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছে চিকিৎসক মহলের একাংশ। নামকরা এপিডেমায়োলজিস্ট ডক্টর অমিতাভ নন্দী বলেছেন, “আমি প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যায় টেস্টের থিওরিতে বিশ্বাস করি না। এই অতিমারীর মধ্যে আমাদের ৫ মাস হয়ে গিয়েছে। এখনও সহজে নমুনা পরীক্ষার কোনও পরিকাঠামো তৈরি করতে পারেনি বাংলার সরকার। যাঁর পরীক্ষা করার প্রয়োজন, তাঁর সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা হওয়া দরকার। কিন্তু এখানে প্রেসক্রিপশন থাকা সত্ত্বেও এখানে ওখানে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে রোগীদের। এটা মেনে নেওয়া যায় না। কম টেস্ট হলে যে সংক্রমণ ছড়ানোর বেশি সম্ভাবনা থাকে সেটা বোঝার জন্য কোনও রকেট সায়েন্সের প্রয়োজন নেই।”
আর এক নামকরা ভাইরোলজিস্ট ডক্টর নিমাই ভট্টাচার্য বলেছেন, “বাংলায় সংক্রমণের হার জাতীয় গড়ের থেকে বেশি। প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যায় নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা জাতীয় গড়ের থেকে কম। আমরা ভুল পথে চলছি। আরটি-পিসিআর না হলে অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে রাজ্যে। কিছু না করার থেকে কিছু করা অনেক ভাল।”
এই মুহূর্তে বাংলায় যে ৭০টি ল্যাবে টেস্ট হচ্ছে তার মধ্যে ৩৮টি ল্যাবে আরটি-পিসিআর সুবিধা রয়েছে। বাকি ল্যাবগুলিতে ট্রুন্যাট অথবা সিবিন্যাট পদ্ধতিতে টেস্ট হচ্ছে। ট্রুন্যাট মেশিনে প্রতিদিন ১৬ ও সিবিন্যাট মেশিনে প্রতিদিন ৩২টি টেস্ট সম্ভব বলে জানিয়েছে রাজ্য। তাই আরটি-পিসিআর মেশিনের উপর চাপ পড়ছে। এখনও পর্যন্ত বাংলায় যা টেস্ট হয়েছে তার মধ্যে ৩ লাখ ১৭ হাজার ২৭১টি অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। বাকিগুলি আরটি-পিসিআর, ট্রুন্যাট অথবা সিবিন্যাট টেস্ট হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এই টেস্টের সংখ্যায় দেশের মধ্যে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলা। এই পরিসংখ্যানই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিকিৎসক মহলের।