দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উলটপুরান। মঙ্গলবার একদিকে যখন ২১ জুলাই প্রথমবার ভার্চুয়াল বক্তৃতায় নিজের বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তখন বিজেপি অফিসে গিয়ে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে পতাকা নিচ্ছিলেন দুই প্রধান তথা ভারতীয় দলে খেলা ফুটবলার মেহতাব হোসেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতে বিজেপি ছাড়লেন মেহতাব।
মঙ্গলবার বিকেলে ছবিটা ছড়িয়ে পড়েছিল ময়দানে। মুখে মাস্ক পরা মেহতাবের সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ, জয়প্রকাশ মজুমদাররা। গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পরে ময়দানের পরিচিত মিডফিল্ড জেনারেল বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। তার জন্যই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপিকে ধর্মনিরপেক্ষ দল বলে উল্লেখ করে মেহতাব বলেন, অনেক চিন্তাভাবনা করেই এই দলে এসেছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল ছবিটা।
https://www.facebook.com/525511537920316/posts/986668675137931/
বুধবার দুপুরে ফেসবুকে নিজের এই সিদ্ধান্ত বদলের কথা জানান ইস্ট-মোহনে খেলা এই প্রাক্তন ফুটবলার। তিনি বলেন, যে লোকগুলোর ভাল করার জন্য তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, সেই লোকগুলোই চান না তিনি রাজনীতি করুন। তিনি এখনও তাঁদের কাছে ময়দানের মানুষ, মিডফিল্ড জেনারেল। আর সেটা তিনি বুঝতে পেরেছেন রাজনীতির আঙিনায় পা রাখার পরে।
বড়সড় একটা ফেসবুক পোস্টে মেহতাব আরও বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত তাঁর স্ত্রী মৌমিতা, সন্তান জিদান, জাভিও সমর্থন করেনি। ওরাও ভক্তদের মতো কষ্ট পেয়েছে। তাই পরিবার ও ভক্তদের অনেকেই তাঁকে রাজনীতি থেকে সরে আসার আবেদন করেন। সেই আবেদন ফেলতে পারেননি মেহতাব। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, রাজনীতি থেকে সরে আসবেন।
অবশেষে মেহতাব জানিয়েছেন, কারও প্রতি রাগ-ঘৃণা তাঁর নেই। কেউ তাঁকে জোর করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেননি। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই এই মুহূর্তে রাজনীতির ময়দান থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে যেভাবে তিনি মানুষের কাজ করার কথা ভেবেছেন, সেটা তিনি চালিয়ে যাবেন।
মঙ্গলবার যথেষ্ট ঘটা করে মেহতাবকে বিজেপিতে স্বাগত জানিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। কল্যাণ চৌবের পর ফের একজন ফুটবলার যোগ দিয়েছিল বিজেপিতে। এদিন সকালেই অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লি উড়ে গিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহারা। এখন দেখার মেহতাবের এই উলটপুরানের পরে বিজেপি শিবির থেকে কী প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়।