
শেষ আপডেট: 1 February 2019 11:25
এ দিন নবান্নে বাজেট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। তারই শেষ পর্যায়ে এ ব্যাপারে মুখ খোলেন তিনি। বলেন, “এখন তো দেখছি, যে আমাকে রান্না করে দেয় তাকেও কোনদিন নোটিস পাঠাবে।” তাঁর কথায়, “যাঁকে ডাকা হয়েছে, তিনি তো নির্দেশ মেনে কাজ করেন। কাগজপত্র সামলান। একজন বয়স্ক মানুষ।” উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে দিদি বলেন, “আচ্ছা বলুন তো! আপনাদেরও তো একজন চিফ এডিটর আছেন। কত লোক কত ধরনের কাজ করেন। কেউ ডেস্কে, কেউ রিপোর্টিং-এ। আবার কেউ চা দেন। এখন কি তাহলে চা ওয়ালা থেকে সিবিআই ওয়ালা হয়েছে?”
তবে মমতা এ দিনও মনে করিয়ে দেন, সিবিআই-এর অফিসারদের বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলছেন না। কারণ, তাঁরা আজ্ঞাবহ কর্মচারী। উপর মহলের নির্দেশ তো ওঁদের মানতেই হবে। এটা বলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন তাঁর ইঙ্গিতটা প্রধানমন্ত্রীর দিকেই। এর আগেও এ নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর নাম করে আক্রমণ শানিয়েছিলেন দিদি। সিবিআই-কে যে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ব্যবহার করছে, এই অভিযোগ অনেকদিন ধরেই তুলছেন মমতা।
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকবার সিবিআই নোটিস পাঠিয়েছিল মানিকবাবুকে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অফিস সামলান তিনি। কিছুটা দূরে কালীঘাট বাজারের কাছে একটি বাড়িতে থাকেন। সেখানেই গতকাল হানা দিয়েছিল সিবিআই। তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র তহবিল সামলানোর দায়িত্বে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের মধ্যে মানিকবাবু অন্যতম। এ ছাড়াও রয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের অন্যতম মুখপাত্র ডেরেক ওব্রায়েনের। ইতিমধ্যে বক্সিবাবু সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিয়ে এসেছেন। নোটিস পাঠানো হয়েছে ডেরেককেও। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, “ওরা সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের ঘিরে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সরকার আর একমাস। তারপর নতুন সরকার।”
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ দিনের কথার পাল্টা দিতে ছাড়েনি বিজেপি-ও। গেরুয়া শিবিরের এক নেতার কথায়, “চা ওয়ালা থেকেই তো চিফ এডিটরের কাছে যেতে হয়। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই এত প্রতিক্রিয়া।”
আরও পড়ুন
https://thewall.in/2019/02/news-state-will-farmers-of-west-bengal-get-11-thousand-rupees-per-year/