দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমস্ত পড়ুয়াকে বাড়ি পাঠিয়ে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা ক্যাম্পাস খালি করে দেওয়ার কথা জানাল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সুপার ওপি সিং বলেন, “আজ, সোমবারই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খালি করিয়ে দিচ্ছি। সব শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেব।"
রবিবারই নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চরমে ওঠে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গায়ে পুলিশ হাত তুললে সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং পুলিশি আক্রমণের প্রতিবাদে মিছিলের আয়োজন করেন আলিগড়ের পড়ুয়ারাও।
অভিযোগ, জামিয়া মিলিয়ার ধাঁচেই ফের বাধা দেওয়া হয় তাঁদের। শুরু হয় সংঘর্ষ। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, শীতের রাতে তাঁদের উপরে চালানো হয় জলকামান। ফাটানো হয় টিয়ার গ্যাসের শেল। লাঠিচার্জ করা হয় বেধড়ক। বহু পড়ুয়া আহত হন।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ওপি সিং বলেন, “পুলিশ ভাঙচুর করেছে এমন কোনও খবর আমরা পাইনি।" তাঁর দাবি ৩০ জন পড়ুয়া যেমন আহত হয়েছেন তেমনি দশ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। এর পরেই ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল খালি করার দাবি করেছে পুলিশ। ওপি সিং আরও জানিয়েছেন, ১৫ জন ছাত্রকে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
রবিবার গভীর রাতে ছাত্র-পুলিশ সংঘাত যখন তীব্রতম হয়েছে আলিগড়ে, তখনই বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। অভিযোগ, এর পরেই আলিগড় ক্যাম্পাসে ঢোকে পুলিশের অ্যান্টি রায়ট যানবাহন। পুলিশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা পুলিশের হস্তক্ষেপের অনুরোধ করার পরেই নাকি তারা ক্যাম্পাসে ঢোকে। অথচ কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অবাঞ্ছিত আচরণ করেছে পুলিশ।
কিন্তু এই বিক্ষোভ আর বাড়তে দিতে চায় না প্রশাসন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দফতর থেকেও নির্দেশ এসেছে ছাত্র আন্দোলনে রাশ পরানোর। সেই কারণেই আর কোনও সুযোগ না দিয়ে ক্যাম্পাস খালি করে দিতে চলেছে পুলিশ। কিন্তু ছাত্রদের তরফে এর পাল্টা পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।