Exclusive: নাকে অক্সিজেনের নল নিয়ে বুদ্ধদেববাবু শুনলেন, চলে গেল নিরুপম
শোভন চক্রবর্তী
সকাল সাড়ে নটা নাগাদ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সিপিএম রাজ্য দফতর থেকে ফোন গিয়েছিল পাম অ্যাভিনিউয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ফ্ল্যাটে। ফোন ধরেছিলেন বুদ্ধদেববাবুকে সারাক্ষণ যিনি দেখভাল করেন তিনি। জানানো হয়, নিরুপম সেনের জীবনাবসানের খবর।
শেষ আপডেট: 24 December 2018 15:18
শোভন চক্রবর্তী
সকাল সাড়ে নটা নাগাদ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সিপিএম রাজ্য দফতর থেকে ফোন গিয়েছিল পাম অ্যাভিনিউয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ফ্ল্যাটে। ফোন ধরেছিলেন বুদ্ধদেববাবুকে সারাক্ষণ যিনি দেখভাল করেন তিনি। জানানো হয়, নিরুপম সেনের জীবনাবসানের খবর। ভিতরের ঘরে তখন অক্সিজেনের নল নাকে শুয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলেই বুদ্ধদেববাবুকে জানানো হয়, নিরুপম সেন আর নেই। দ্য ওয়াল-এর তরফে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ফোন করা হলে, তাঁকে দেখার দায়িত্বে থাকা জনৈক ব্যক্তি জানান, “পার্টি অফিস থেকে ফোন আসার পর, আমিই খবরটা জানিয়েছিলাম। শুনে কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন।”
বুদ্ধ-নিরুপম জুটিকে সামনে রেখেই ২০০১ থেকে শিল্পায়নের দৌড় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বামফ্রন্ট। সেই কারণেই ৮৭ সালের পর ফের সে বছর বিধানসভা নির্বাচনে নিরুপম সেনকে প্রার্থী করা হয়েছিল বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে। ইন্দোনেশিয়ার সালিম গোষ্ঠী থেকে টাটাকে রাজ্যে আনার ক্ষেত্রে এই জুটিই ভূমিকা নিয়েছিলেন সেই সময়।

ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই দুজনের বন্ধুত্ব। ৬৭ এবং ৬৯-এ দুটি যুক্তফ্রন্ট সরকারের পতন, ৭২-৭৭ সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের জমানা, তারপর ৭৭-এ বামফ্রন্ট সরকার গঠন, গোটা সময়টাতে নিরুপম সেন বর্ধমানের বামপন্থী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও, বুদ্ধবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নিবিড়। সোমবার সন্ধ্যায় লিখিতভাবে একটি শোকবার্তাও জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
২০০৬-এ ২৩৫টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের পর এক বছর কাটতে না কাটতেই নানাদিকের বিরোধী আন্দোলনে তখন প্রবল চাপে বামফ্রন্ট। একদিকে নন্দীগ্রাম অন্যদিকে সিঙ্গুর, একদিকে পাহাড় অন্যদিকে জঙ্গলমহল। দিশেহারা প্রশাসন। নিরুপম সেনকে বারবার সিঙ্গুরে পাঠিয়েছিলেন বুদ্ধদেববাবু। কখনও রতনপুরে কৃষকসভার জনসভায় তো কখনও সানাপাড়ায় ডিওয়াইএফআই-এর সমাবেশ। একাধিক বাম কর্মসূচিতে তখন মুখ নিরুপম। শেষবার দু’জনের দেখা হয়েছিল ২০১৫ সালে দলের রাজ্য সম্মেলনে। ২০১৩ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর গৃহবন্দিই ছিলেন নিরুপমবাবু। রাজ্য সম্মেলনে এসেছিলেন হুইল চেয়ারে বসেই। এ দিকে অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও। আবছা হয়েছে দৃষ্টিও। প্রায় কিছুই পড়তে পারেন না। ২৪ ঘণ্টা চলে অক্সিজেন। সেই অবস্থাতেই শুনলেন 'সহযোদ্ধা'র চলে যাওয়ার খবর।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/obituary-nirupam-sen-by-suparna-pathak/