ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলির দাবি, সোমবার থেকেই দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে কয়েকশো পর্যটক পৌঁছে গিয়েছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 October 2025 09:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূমিধসের দাপটে (North Bengal Land Slide) রবিবার পর্যটকদের জন্য দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) একাধিক দর্শনীয় স্থান বন্ধ করে দিয়েছিল জিটিএ। টাইগার হিল (Tiger Hill), সান্দাকফু (Sandakphu), রক গার্ডেনের মতো জনপ্রিয় জায়গাগুলিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল নিরাপত্তার স্বার্থে। তবে মাত্র একদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় সোমবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাহাড়ি পর্যটন, ফের ভিড় বাড়ছে দার্জিলিং ও কালিম্পংমুখী পর্যটকদের (North Bengal Flood)।
তবে পর্যটকদের সমস্যার শেষ হয়নি। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে ফেরার পথে। দার্জিলিং বা গ্যাংটক থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দর বা শিলিগুড়ি পর্যন্ত গাড়ি ভাড়ায় চড়া দামে দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। একাধিক পর্যটক জানিয়েছেন, সাধারণ সময়ে যেখানে ৫-৬ হাজার টাকায় গাড়ি মিলত, সেখানে এখন সেই ভাড়া বেড়ে হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
বাগডোগরা থেকে বিমানের ভাড়াও আকাশছোঁয়া। কলকাতাগামী টিকিটের দাম সোমবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। হঠাৎ এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলেও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
এদিকে দার্জিলিং পাহাড়ে একাধিক জায়গায় ধসের জেরে রেল পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত টয় ট্রেনের জয়রাইড পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য ট্রেন পরিষেবা আপাতত চালু থাকবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলির দাবি, সোমবার থেকেই দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে কয়েকশো পর্যটক পৌঁছে গিয়েছেন। যদিও রবিবারের ধসের অভিজ্ঞতায় অনেকেই নির্ধারিত ভ্রমণ সূচি সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত সমতলে ফিরে আসছেন। সরকারিভাবে ঠিক কতজন পর্যটক এখনও পাহাড়ে আটকে রয়েছেন, সেই তথ্য মেলেনি।
পর্যটন পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু। তাঁর বক্তব্য, “এখন পাহাড়ে আটকে পড়ার মতো কোনও পরিস্থিতি নেই। সব রাস্তা খোলা। পর্যটকদের আমরা দার্জিলিং ও কালিম্পং ভ্রমণে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “রবিবারের জন্য কিছু জায়গায় সাময়িকভাবে দর্শনীয় স্থান বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখন সব কিছুই স্বাভাবিক। কেবল বিমান ও গাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়-সহ সমতলে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন। ডুয়ার্সের পরিস্থিতিও হয়ে ওঠে ভয়াবহ। নদীর জলস্রোত বৃদ্ধি পেয়ে ভেঙে যায় কাঠের সেতু। জলদাপাড়া টুরিস্ট লজে আটকে পড়েন প্রায় ২৫ জন পর্যটক। সোমবার তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ের আবহাওয়া ভাল হওয়ায় সেখান থেকেও নেমে আসছেন পর্যটকেরা। অনেকেই উদ্বেগে সফর কাটছাঁট করেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দা। অনেকে ভিন্রাজ্য থেকেও বেড়াতে গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গে।