
শেষ আপডেট: 14 October 2023 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: মহালয়া এলেই মন কেমন। ঘুরে ফিরে চলে স্মৃতিদের হানাদারি। আসলে মহালয়া মানেই যে একলপ্তে ব্যস্ততা হাজারগুণ বেড়ে যাওয়া। রেডিও নিয়ে দোকানের সামনে লম্বা লাইন। সবারটাই আগে সারিয়ে দিতে হবে। নিজের দোকানে ধুলোয় ধূসরিত রেডিওগুলি নামানোর পালাও চলত পিতৃপক্ষেই। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় ভর করেই যে হত দেবীপক্ষের ভোর।
পুজো এলেই স্মৃতিগুলি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে খোকন সাহার মনে। পেশায় ছিলেন রেডিও মিস্ত্রি। তবে এখন আর রেডিও সারাইয়ের কাজ করেন না। তাঁর কাছেই জানা গেল, ষাট-সত্তর দশকের দিকে তখন মালদহ শহরের নেতাজি মোড়ে রেডিও সারাইয়ের দোকান বলতে বীণাপাণি মিউজিক মার্ট, রেডিও ইলেকট্রনিক্স কর্পোরেশন, তারবেতার, বেতারবাণী এবং খোকনবাবুদের দোকানটি। মহালয়ার সময় মাস খানেক আগে থেকে নাওয়া-খাওয়া ভুলে যেতে হত। চলত পরের পর রেডিও সারাই। দেবীপক্ষ শুরুর আগেই সবাই চলে আসতেন যে যাঁর রেডিও নিতে।
এখন সে সব ভেবে মনটা অস্থির হয়ে উঠলেই নিয়ে বসে পড়েন ৯০ ভোল্ট ব্যাটারির ড্রাইসেট রেডিও কিংবা ৭০ বছরের পুরনো ভালভ সেটটি নিয়ে। ট্রানজিস্টর রেডিওর রকমারি সম্ভার রয়েছে তাঁর কাছে। বাড়িখানাই যেন আস্ত একটি সংগ্রহশালা। মহালয়ার আগে অভ্যেসবশত এখনও পুরনো রেডিও নিয়ে সারাইয়ের কাজে বসে পড়েন তিনি। এইচএমভি ছাড়াও ফিলিপস, টেলিফাঙ্কান, মুরার্ড, জিইসি, এইচজিইসি-সহ বেশ কিছু রেডিও রয়েছে তাঁর সংগ্রহে।
খোকনবাবু জানান, দাদা স্বর্গীয় বিমলকুমার সাহার কাছে রেডিও মেরামতির কাজে তাঁর হাতেখড়ি। তাঁর কথায়, “একসময় মহালয়ার আগে রেডিও মেরামতির জন্য আমাদের দোকানে ভিড় লেগে যেত। লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন সবাই। কাজের চাপ ছিল। কিন্তু পুজোর আগে বেশ আনন্দও পেতাম। সেই আনন্দের কথা এখন শুধুই দুঃখ জাগায়। বর্তমানে আর বিক্রি হয় না রেডিও। কারও বাড়িতে পুরনো রেডিও থাকলেও তা খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। ঠিক করার উপায় নেই। কারণ বাজারে পার্টস পাওয়া যায় না।”
শনিবার ভোরে নিজেরই সংগ্রহের একটি রেডিও খুলে নিয়ে বসেছিলেন খোকনবাবু। নিয়ম মেনেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্তোত্রপাঠে দেবীপক্ষের সূচনার সাক্ষী থাকতে।