দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন দ্রুত বলবৎ করার দাবিতে রাস্তায় নামল মতুয়া সমাজ। শুক্রবার নদিয়ার বগুলায় মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে সমাবেশ হয়।
বগুলার সমাবেশ থেকে শান্তনু বলেন, "বহু কাঙ্খিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল সরকার যতদিন রয়েছে ততদিন তা বলবৎ হবে না।" বনগাঁর সাংসদ বলেন, তৃণমূল সরকারের পতন নিশ্চিত করলে তবেই বাংলায় সিএএ কার্যকর করা সম্ভব।
পাল্টা তৃণমূল সাংসদ তথা শাসক দলের নদিয়া জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র বিজেপিকে অশিক্ষিত বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর কথায়, "অশিক্ষিত বিজেপির লোক, মিথ্যেবাদীগুলো কী বলল তার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।" এরপরই তিনি বলেন, "তৃণমূল থাকতে বাংলায় আমরা সিএএ বলবৎ হতে দেব না। মতুয়াদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। তাঁরা তো এখানকার নাগরিকই। তাঁদের কে কি বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে নাকি?
বাম জমানার শেষ পর্ব থেকেই মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করে তৃণমূল। বড় মা বীণাপানি দেবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর, মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর, মমতাবালা ঠাকুরদের মতো ঠাকুর নগরের ঠাকুরবাড়ির অনেককে জনপ্রতিনিধি করেন দিদি। কিন্তু উনিশের ভোটে সেই সব ভোট চলে যায় বিজেপিতে। শুধু বনগাঁ নয়। মতুয়া ভোট গেরুয়া শিবিরের দিকে চলে যাওয়ায় তৃণমূলের হাতছাড়া হয় রানাঘাটে আসনটিও।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহ দুয়েক আগে যখন অমিত শাহ কলকাতায় এসেছিলেন তখনও তাঁকে সিএএ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, "দেশে যখন আইন হয়েছে তখন তা বলবৎ হবেই। এটা কোনও রাজ্যের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপার নয়। কোভিডের কারণে সিএএ কার্যকর যাচ্ছে না।"
পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশের আগে মতুয়া ভোটকে নিজেদের দিকে রাখার প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। প্রচার শুরু করে দিল এই বলে, দেখো মোদী, শাহ সিএএ পাশ করেছেন কিন্তু এখানে তা আটকে দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।