দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি বিশ্বভারতীর একটি মহল থেকে দাবি করা হয়, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বাড়ির জমির একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। এই বিতর্কে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিলেন অমর্ত্য সেনকে। ইংরেজিতে লেখা চিঠির শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, মাননীয় অমর্ত্যদা, শান্তিনিকেতনে আপনার পারিবারিক জমি নিয়ে বিতর্কের কথা সংবাদমাধ্যমে জানতে পারলাম। এতে আমি একইসঙ্গে আশ্চর্য ও উদ্বিগ্ন হয়েছি।
এরপরে শান্তিনিকেতনের সঙ্গে অমর্ত্য সেনদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন মমতা। তিনি লিখেছে, আমরা সকলেই জানি, আপনার দাদু ক্ষিতিমোহন সেন শান্তিনিকেতনের আদি বাসিন্দাদের অন্যতম। আপনার বাবা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক আশুতোষ সেন আট দশক আগে প্রতীচির বাড়িটি তৈরি করেন। আপনাদের পরিবার শান্তিনিকেতনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত।
সরাসরি কারও নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, শান্তিনিকেতনের 'নতুন দখলদাররা' আপনার পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে আশ্চর্যজনক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। এতে আমি ব্যথা পেয়েছি। যারা অন্ধবিশ্বাসী, দেশের ওপরে সংখ্যাগুরুর শাসন চাপিয়ে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনার প্রতি আমি সহমর্মিতা জানাই। সেই লড়াই আপনাকে অসাধু লোকেদের শত্রু করে তুলেছে।
চিঠির শেষ অনুচ্ছেদে মমতা অর্থনীতিবিদের উদ্দেশে লিখেছেন, আমাকে আপনার বোন ও বন্ধু বলে মনে করবেন। অসহিষ্ণুতা ও সর্বগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে আপনার ন্যায্য লড়াইয়ে সমর্থন জানাই। অসত্য অভিযোগ, অন্যায় আক্রমণে আমরা সাহস হারাব না। জয় আমাদেরই হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার অমর্ত্য সেনের বাড়ি নিয়ে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মমতা। তিনি বলেন, "এবার বাংলার মনীষীদের আঘাত করা শুরু হয়েছে। তা সহ্য করব না।" মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অমর্ত্য সেন নীতিগতভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে বলেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, "আপনারা কি বিশ্বাস করেন, অমর্ত্য সেনের এমন কোনও দিন আসবে যে, তাঁকে শান্তিনিকেতনে জমি দখল করতে হবে? তাঁর বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই বলে যাবে, বাংলার মানুষ এটা সহ্য করবে না। আমি বাংলার হয়ে ক্ষমা চাইছি।"