মহেশতলা দেখাল, বাংলায় বিকল্প নেই তৃণমূলের
শঙ্খদীপ দাস: সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত ভোটে খুন, জখম, পুড়িয়ে দেওয়ার ছবি গুলো এখনও ফিকে হয়নি। তুলনায় গত সোমবার কলকাতার উপকণ্ঠে মহেশতলা বিধানসভার উপ নির্বাচনের দৃশ্য গুলো ছিল যেন ভিন্ন মেরুর। মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোট। কোনও হানাহানি নেই। বিরোধী
শেষ আপডেট: 31 May 2018 13:55
শঙ্খদীপ দাস: সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত ভোটে খুন, জখম, পুড়িয়ে দেওয়ার ছবি গুলো এখনও ফিকে হয়নি। তুলনায় গত সোমবার কলকাতার উপকণ্ঠে মহেশতলা বিধানসভার উপ নির্বাচনের দৃশ্য গুলো ছিল যেন ভিন্ন মেরুর। মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোট। কোনও হানাহানি নেই। বিরোধীদের উদ্দেশে শাসক দলের তেমন কোনও চোখ রাঙানিও নেই। এবং বিষ্যুতবার বেলা গড়ানোর আগেই সেই ভোটের ফলাফলে দেখা গেল, বাম-বিজেপি-কে হেলায় হারিয়ে সবুজ আবির মেখে নিয়েছে তৃণমূল।
আরও পড়ুন
মহাজোটের কাছে ডাহা ফেল মোদী-যোগী
চূড়ান্ত ফলাফল কী দাঁড়াল?
মহেশতলা বিধানসভার উপ নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী দুলাল দাস পেয়েছেন ১,০৪, ৮১৮ টি ভোট। বিজেপি ৪২,০৫৩ টি এবং সিপিএম পেয়েছে ৩০,৩৮৪ টি ভোট। অর্থাত ৬২ হাজার ৭৬৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে তৃণমূল।
তা হলে এই ফলাফলের বার্তা কী?
১) বাংলায় তৃণমূলের কোনও বিকল্পই এখনও তৈরি হয়নি। পঞ্চায়েত ভোটে বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু জায়গায় বিজেপি আসন বাড়িয়েছে ঠিকই। কিন্তু সামগ্রিক ভাবে গোটা বাংলায় তাঁদের সংগঠনের কোনও জোর নেই। জোর নেই জনভিত্তিতেও। আর যাই হোক মহেশতলায় ভোট লুঠ বা ছাপ্পার কোনও অভিযোগ তুলতে পারেননি দিলীপ ঘোষ-মুকুল রায়রা।
উভয়ের প্রাপ্ত ভোটের হার দেখলে তা আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে। মহেশতলার ভোটে তৃণমূল ৫৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিজেপি পেয়েছে ২৩.৭ শতাংশ ভোট।
বিজেপি একটা যুক্তি এর পরেও দিতে পারে। মহেশতলার একাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানে তারা বিশেষ ভোট পায়নি। বাংলার সর্বত্র এই সমীকরণ থাকবে না। কিন্তু উভয়ের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান এতই যে তর্কও এখানে খাটে না।
২) বিজেপি-সিপিএমের লড়াই হয়েছে অনেক দূরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নিয়ে। দুয়ের কেউই শাসক দলের জন সমর্থনের ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেনি।
৩) ঠিক যে সূত্রে বাংলায় চৌত্রিশ বছর শাসন করেছেন বামেরা। যে সূত্রে সবংয়ে উপ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জিতেছিলেন মানস ভুইঞাঁর স্ত্রী গীতা ভুইঞাঁ। সেই এক ফর্মুলায় মহেশতলায় জয়ের ব্যবধান বেড়েছে তৃণমূলের। বিরোধী ভোট ভাগাভাগির ফলেই তা সম্ভব হয়েছে।
অথচ এই মহেশতলাতেই ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের ফল ছিল ভিন্ন। তখন বাম কংগ্রেসের জোট হয়েছিল। সেই জোট নিয়ে শহর এলাকায় কিছুটা অনুকূল হাওয়া ছিল। ফলে বিরোধী ভোটের ভাগাভাগি তেমন হয়নি। বাম-কংগ্রেসের জোট প্রার্থী পেয়েছিলেন ৮১ হাজার ২২৩ টি ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ১৪ হাজার ভোট। ফলে সাড়ে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল।
৪) বৃহস্পতিবার মহেশতলা এও জানাল,- সিপিএমই জিয়নকাঠি তৃণমূলের। সুতরাং এক সময়ে যেমন বামেরা কৌশলে কিছু কিছু জায়গায় কংগ্রেসকে বাঁচিয়ে রাখত, এখন সিপিএমকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে তৃণমূলকে। কেন? কারণ, সিপিএম যত দুর্বল হবে ততই বাংলায় শক্তি বাড়াতে সফল হবে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের ভাবধারার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবধারার কোনও মৌলিক ফারাক নেই ঠিক। তবে তৃণমূলের মূল মতাদর্শ ছিল সিপিএম বিরোধিতা। জমিতে সিপিএমের লাল ঝাণ্ডা দেখলে এখনও রক্ত গরম হয় তৃণমূলের বহু সমর্থকের। কিন্তু তা না থাকলে কে বলতে পারে, বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ের অনেকটাই ধর্মীয় মেরুকরণের লড়াইয়ে পরিণত হবে না!
আরও পড়ুন: উনিশেই কি উল্টে যাবে?