দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচবিহারে ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা ভোটে এই জেলায় কোনও আসন পায়নি তৃণমূল। একুশের ভোটে আগে এখন ফের দল ছাড়ার হুজুগ উঠেছে। ইতিমধ্যে বিধায়ক মিহির গোস্বামী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে আজ
বুধবার কোচবিহারে কর্মিসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তৃতার হাইলাইটস-
° হয়তো একটা পার্লামেন্ট ভোটে আমরা হেরেছি। এখন দেখছেন তো জিতে কেমন গুন্ডামি করে বেরাচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের দল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। তাকে বিজেপি নিয়ে এসেছে। আমরা বলিনা, পুরনো বোতলে নতুন মদ। সে কুৎসা করে, নানা রকম বিষয়ে জড়িয়ে থেকে, এপার ওপার করে বড় নেতা হয়েছেন।
° আমরা ভোট করার জন্য বাঙালি রাজবংশী ভাগাভাগি করি না। হিন্দু মুসলমান, তফসিলি থেকে আদিবাসী আমরা ভাগাভাগি করি না।
আমি রাজবংশী ভাষা বুঝি। রাজবংশী ভাষায় কবিতা লিখেছি, যেমন অলচিকিতেও কবিতা লিখেছি। রাজবংশী ভাষা সহজ সরল। কামতাপুরী রাজবংশী কমবেশি কাছাকাছি।
° যাঁরা প্রথম দিন থেকে তৃণমূলে ছিলেন তাঁরা আছেন। একটা দুটো জোয়ারে আসে ভাঁটায় চলে যায়। যাঁরা প্রথম দিন থাকে, তাঁরা শেষ দিন পর্যন্ত থেকে যায়। আদর্শ বদল করা যায় না।
° কৃষকদের জমি খাজনা কোনওদিন দিতে হবে না। আমরা সব মকুব করে দিয়েছি। বিনা পয়সায় রেশন দিচ্ছি। আমাদের সরকার আসবে। আবার ফ্রিতে পাবেন।
° কোচবিহারে কী হয়নি? বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, মেডিকেল কলেজ হয়েছে, পলিটেকনিক হয়েছে, আইটিআই হয়েছে, ভাওয়াইয়া সেতু হয়েছে, জয় সেতু হয়েছে।
° পুরোহিতরা এখন ১ হাজার টাকা করে ভাতা পান, আগামী দিনে ২ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। আমরা লোকনাথ বাবা মন্দিরের জন্য দু’শ আড়াইশ কোটি খরচ করেছি। জল্পেশ মন্দিরের জন্য ৫ কোটি টাকা দিয়েছি। গতকাল শিব মন্দিরে গিয়েছিলাম। সেখানে গেস্ট হাউজ আর ভোগ ঘরের জন্য ১ কোটি টাকা দেব বলেছি।
° তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা যাঁরা নিচুতলায় রয়েছেন, যাঁরা মধ্যতলায় রয়েছেন, আমি আশাকরি তাঁরা বিজেপির গুন্ডামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।
° সব বাইরের গুন্ডা। বহিরাগত সব বাইরের গুন্ডা। সব চম্বলের ডাকাত। কখনও পুলিশকে ভয় দেখাচ্ছে। কখনও তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে।
° মিডিয়ার সব কথা বিশ্বাস করবেন না। কারণ নরেন্দ্র মোদীরা ওদের সব কিনে নিয়েছে। ওরা শুধু বিজেপিকে দেখাবে। আমাদের দেখাবে না।
° তোমার বিজেপি তো ভারতবর্ষে ক্ষমতায় রয়েছে ৬ বছর। বাংলার জন্য কী করেছ বন্ধু? সব করে দেব আমরা কৈফিয়ত চাইবে ওরা।
লোকসভা নির্বাচনে আমাদের ভোট দেননি, কোনও অভিমান নেই। কিন্তু বিধানসভায় ওদের ভোট দেবেন না। কিছু আরএসএসের গুন্ডা ঢুকে পড়েছে। কুৎসা করছে। ওরা রামকৃষ্ণ মিশনের হিন্দু নন। ওরা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের হিন্দু নন।
° সুব্রত বক্সী আমার দলের রাজ্য সভাপতি। রাজ্যসভার সাংসদ। সামান্য লজ্জা ঘেন্না। বলছে, দাদা একটু আপনার সঙ্গে বসব। গতকাল কেষ্ট মন্ডল ফোন করেছে বীরভূম থেকে। বলছে আমাকে দিল্লি থেকে একজন ফোন করেছিল। আমি বলেছি, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করি, তোমার সঙ্গে কেন বসব। সাহসটা দেখুন আমার রাজ্য সভাপতিকে ফোন করছে।
° কোচবিহারে ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে এয়ারপোর্ট বানিয়ে দিলাম। একটাও বিমান এলো না কেন? আপানাদের এক এমপি বাবুকে দেখলাম নিজেই একটা প্লেন ভাড়া করে চলে এলো। বাকিদের কী হবে! বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। টাকা দিচ্ছে। ওই পাপের টাকা নেবেন না।
° যদি দিল্লি চায় সবাইকে নিয়ে এসে যুদ্ধ করবেন, আসুন যুদ্ধ করি। এই মদনমোহনকে সাক্ষী রেখে এই রাসমনি মাঠে করুন। আপনার সঙ্গে গুন্ডা থাকবে। আমার মানুষ থাকবে। দেখি কে যেতে।
° আমরা হারিনি আমরা হারব না আমরা হারতে পারি না।