
শেষ আপডেট: 26 August 2020 07:39
বামফ্রন্টের শেষলগ্নে তৎকালীন সুন্দরবন উন্নয়ণমন্ত্রী কান্তী গাঙ্গুলী সাধারণ মানুষের কথা ভেবে পুরোনো ব্রিজটি সংস্কার না করে, পাশেই পিয়ালী নদীর উপর একটি নতুন ব্রিজ তৈরীর সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয় ব্রিজটির জন্য। ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারী এই ঢোষা ব্রিজের শিলান্যাস করেন স্বয়ং কান্তি গাঙ্গুলী। তিন কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১১ মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে যায় নতুন ব্রিজ। ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও জমিসংক্রান্ত কিছু কারণে জয়নগরের দিকে যাতায়াতের রাস্তার কাজ থেমে যায়। ফলে চালু করা সম্ভব হয়নি ব্রিজটিও।
ইতিমধ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে গেছে রাজ্যে। বামফ্রন্টের পতন ঘটেছে। ক্ষমতায় আসে মা-মাটি-মানুষের সরকার। ব্রিজটি নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্যই করেন নি বর্তমান প্রশাসন। দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে জমিজটে থমকে রয়েছে ব্রিজের কাজ। ব্রিজটি চালু হলে ক্যানিং এবং জয়নগরের মধ্যে যাতায়াতের সমস্যা অনেকখানি দূর করা সম্ভব হত, বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন ব্রিজটি চালু না হওয়ায় তারা হতাশ। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন। বাসিন্দাদের মতে ক্যানিং থানার হাটপুকুরিয়া, দাঁড়িয়া, হেড়োভাঙ্গার মতো জায়গাগুলিতে় যেতে তাদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।প্রশাসনের উচিৎ সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে এই সেতুটি চালু করা।
ধোসা-চন্দনেশ্বর নবীনচাঁদ হাইস্কুলে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রী মোমিনা মোল্লা, অমল সরদার, হৃষিকেশ নস্কর, গগন মাহাতরা জানায় "পিয়ালি নদীর উপর নতুন ব্রিজ চালু না হওয়ার কারণে আমাদের স্কুলে আসতে কিংবা যেতে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ব্রিজ দিয়েই যাতায়াত করতে হয় রোজ।" প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও ফল হয়নি, এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ব্যাপারে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শ্যামল মন্ডলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন “২০১২ সালে সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন ঢোষাব্রিজে যাতায়াতের জন্য ক্যানিং ১নং ব্লকের ঢোষাহাট ব্রীজ - যামিনী মোড়ের সংযোগকারী প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা তড়িঘড়ি করে দিয়েছিলাম ৮৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। কিন্তু ব্রিজের জয়নগরের দিকের রাস্তা জমিজটে আটকে পড়ায় ব্রিজটি চালু করা যায়নি। তবে পুরোনো ব্রিজটি যাতে খুব তাড়াতাড়ি সংস্কার করে যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত করে তোলা যায় তার জন্য সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ'কে জানানো হয়েছে। ”