
শেষ আপডেট: 2 July 2023 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: ওড়িয়া ভাষায় দেওয়াল লিখে ভোট প্রচার করছে তৃণমূল! পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে নতুন পথ নিতে দেখা গেলে শাসকদলকে। আসানসোলের জামুরিয়ার একটি গ্রামে প্রার্থী জন্য ওড়িয়া ভাষায় দেওয়াল লেখা চলছে।
তবে বাংলার পঞ্চায়েত ভোটে ওড়িয়া ভাষার ব্যবহার কেন? এবিষয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেবেচিন্তে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে তৃণমূল। আসলে, জামুড়িয়া বিধানসভার কেন্দা ভসকা ধাওড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১৭ নম্বর বুথটি বেশির ভাগ বাসিন্দা ওড়িশা থেকে কর্মসূত্রে পশ্চিম বর্ধমানে এসেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে ভোটারদের মাতৃভাষাকে সম্মান জানিয়ে নজর ঘোরাতে চাইছে তৃণমূল। এই এলাকায় জেলা পরিষদের লড়াইয়ের জন্য পুতুল ব্যানার্জীকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর সমর্থনে ওড়িয়া ভাষাতে একাধিক জায়গায় লেখা হয়েছে দেওয়াল। এতে অবশ্য লক্ষ্যে অনেকটাই সফল তৃণমূল।
এলাকার বাসিন্দা, অজয় কুমার মাহান্তি জানান, গ্রামে মাতৃভাষাতে দেওয়াল লেখা হওয়ায় তাঁরা খুবই খুশি। এখনও অনেকেই বাংলা ঠিকমতো পড়তে পারেন না। ফলে ভোটে কে প্রার্থী হবে, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় তাদের। ওড়িয়া ভাষাতে দেওয়াল লিখন হওয়ায় এখন তাঁরা প্রার্থীর নাম স্পষ্ট বুঝতে পারচ্ছেন।
ওই এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েতে সদস্য তথা তৃণমূল নেতা গৌতম বাউরী জানান, কোল ইন্ডিয়ার জাতীয়করণ হওয়ার আগে বহু ওড়িয়াভাষী খনিগর্ভে কয়লা কাটার জন্য এই এলাকায় এসেছিলেন। ১৯৭৩ সালে কোল ইন্ডিয়া রাষ্ট্রীয়করণ হওয়ার পর তাঁরা স্থায়ী চাকরি পেয়ে যান। তারপর থেকে এই সমস্ত ওড়িয়া পরিবার এইখানেই রয়ে গেছেন। বর্তমানে ২১৭ নম্বর বুথের এই সংসদে মোট ভোটার সংখ্যা ৭৮০ জন। তাঁদের মধ্যে চারশোর বেশি ভোটার উড়িয়া ভাষাভাষী।
প্রার্থী পুতুল ব্যানার্জী জানান, ওই এলাকার প্রায় সমস্ত ভোটার তাঁদের সমর্থক। অনেক ওড়িয়া ভাষাভাষির মানুষ তাদের কাছে আবেদন করেছিলেন, তাই ওড়িয়াভাষায় দেওয়াল লেখা হয়। তাই ভোটারদের সুবিধার্থে ওড়িয়া ভাষায় দেওয়াল লিখন করেছেন। জামুরিয়ার এই গ্রামে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে ওড়িশা ও বাংলা মিলেমিশে একাকার।
মাওবাদী থেকে মূলস্রোতে, তৃণমূলের টিকিটে পঞ্চায়েতে লড়বেন প্রাক্তন কমান্ডারের স্ত্রী