
শেষ আপডেট: 27 April 2022 03:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির উত্তরবঙ্গের শিব আরাধনার পীঠস্থান (Jalpaiguri Jalpesh Temple)। দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে প্রতিবছর ভক্তের ঢল নামে। জাগ্রত দেবতার অধিষ্ঠান এই মন্দিরে। কিন্তু জল্পেশের দুয়ারেই মঙ্গলবার হঠাৎ হুলস্থূল কাণ্ড। মাটি খুঁড়তেই সেখান থেকে বেরিয়ে এল আরও একটি অনাদি শিবলিঙ্গ। যা নিয়ে ভক্ত এবং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হইচই পড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় আজ রিয়েল ফিল ৪২, গরমের ছুটি এগিয়ে আসবে কিনা সিদ্ধান্ত দুপুরেই
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী জল্পেশ মন্দিরের (Jalpaiguri Jalpesh Temple) কাছেও স্কাইওয়াক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা। মঙ্গলবার সেই স্কাইওয়াকের জন্যই মাটি খোঁড়া হচ্ছিল জল্পেশ মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। জেসিবি মেশিন দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছিল। হঠাৎ সেখান থেকে মাটির গভীরে পোঁতা একটি শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয়।
উদ্ধার হওয়া ওই শিবলিঙ্গটি প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতার। চওড়াতেও সেটি প্রায় ফুট দুয়েক। পাথর খোদাই করে সেটি তৈরি হয়েছে। ওজন প্রায় দেড় কুইন্টালের কাছাকাছি। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই শিবলিঙ্গের সঙ্গে মূল মন্দিরের অনাদি শিবলিঙ্গের মিল রয়েছে (Jalpaiguri Jalpesh Temple)।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহলী মানুষ নতুন শিবলিঙ্গ দেখতে ভিড় করেন জল্পেশ মন্দিরে। কেউ কেউ পুজোও দেন। ওই এলাকা থেকে একটি লোহার ঘণ্টাও পাওয়া গেছে মাটি খুঁড়ে। ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্য তথা আইনজীবী শিব শঙ্কর দত্ত আপাতত ওই শিবলিঙ্গটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আরও খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগকে।
জেসিবি ড্রাইভার শিবু রায় জানান বিকেল ৪টে নাগাদ মাটি খোঁড়ার সময় হঠাৎ ঠুক করে শব্দ হয়, তাতেই তিনি বোঝেন ওখানে কিছু রয়েছে। সাবধানে আরও খানিকটা খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে শিবলিঙ্গ। খবর পেয়েই ছুটে আসেন মন্দির কমিটির সদস্যরা।
অন্যদিকে মন্দির কমিটির সম্পাদক গিরিন দেব জানিয়েছেন উদ্ধারকৃত মূর্তিটির সঙ্গে মূলও মন্দিরের অনাদি শিবলিঙ্গের মিল রয়েছে। শুধু তাই নয়, মূল শিবলিঙ্গটি মন্দিরের যত গভীরে রয়েছে এই শিবলিঙ্গটিও সেই গভীরতা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। আপাতত এটিকে মন্দিরেই রাখা হবে, নিয়মিত পুজো করা হবে।