
শেষ আপডেট: 30 August 2022 10:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সন্ধেবেলা বোমা ফাটিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তৃণমূলের একাংশের দুর্নীতি নিয়ে জহরবাবু বলেছিলেন, এসব দেখে তাঁর গা শিরশির করছে। এইপচা অংশকে কেটে বাদ দেওয়া দরকার। সেই সাক্ষাৎকারের ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই জহরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের (TMC) প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy comment on Jahar Sarkar)।
এদিন সৌগত সংবাদমাধ্যমে বলেন, “জহর সরকার (Jahar Sarkar) তৃণমূলে আছেন কেন? সাহস থাকলে পদত্যাগ করুন। তাতে অবশ্য উনি লাকি হবেন। একটা পেনশন পাচ্ছেন, রাজ্যসভার পেনশনটাও পাবেন।”
এখানেই থামেননি দমদমের সাংসদ (Sougata Roy)। সৌগতবাবু আরও বলেন, “জহর সরকার জন্য রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার আগে একদিনের জন্য তৃণমূলের মিছিলে হাঁটেননি। কোনও স্যাক্রিফাইস (আত্মত্যাগ) নেই। উনি যখন দিল্লিতে সংস্কৃতিমন্ত্রকের সচিব ছিলেন, তৃণমূলের একটা উপকার করেননি।”
খোলাখুলি সৌগত বলেছেন, “এঁরা সব আত্মকেন্দ্রিক। নিজেদের স্বার্থে চলেন। সাংসদ হিসেবে যখনতখন প্লেনে যাবেন, মাসে দু’লক্ষ টাকা বেতন পাবেন, আর পার্টির খারাপ সময় এলেই সরে যাবেন!”
জহর সরকার যে ভাবে প্রকাশ্যে দল নিয়ে কথা বলেছেন তাতে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন সৌগত। তাঁর কথায়, “জহর সরকারকে এইসব কথা জনসমক্ষে বলার জন্য রাজ্যসভায় পাঠানো হয়নি। ভাল না লাগলে ছেড়ে দিন। আমাদের মুক্তি দিন। অন্য কাউকে উপনির্বাচনে জিতিয়ে রাজ্যসভায় পাঠাব।”
সাক্ষাৎকারে জহরবাবু দাবি করেছিলেন, পার্টির ভিতরে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, এসব কি কেউ জানতেন না? কিন্তু তাঁকে কেউ কেউ বলেছিলেন, এতটা জানা ছিল না। আবার প্রাক্তন এই আমলা এও বলেছিলেন, দলে যে সবসময় তাঁকে ডাকা হয় তা নয়। কেউ কেউ চেপে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। পাল্টা এদিন সৌগত বলেছেন, গত ২১ জুলাই শেষ বৈঠক হয়েছিল দলের। সেখানে জহরবাবু এসব কিছু বলেননি। তারপরে আর পার্টি বা সংসদীয় দলের বৈঠক হয়নি।
যদিও একুশের জুলাইয়ের পরের দিন পার্থবাবুর বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। ২২ জুলাই সন্ধের পর অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড সিটির ফ্ল্যাট থেকে প্রথম টাকার পাহাড় উদ্ধার হয়েছিল। যদিও অগস্টের প্রথম সপ্তাহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের সময়ে জহর সরকারকে দেখা গিয়েছিল দলের সাংসদদের সঙ্গে।
গতকাল সাক্ষাৎকারে জহর সরকার বলেছিলেন, তাঁর কোনও লোভ নেই। যে কোনও দিন সাংসদ পদ ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু পাছে লোকে বলে, হঠকারী, ভিতু—তাই তিনি ছাড়ছেন না। তবে এও বলেছিলেন, যেদিন আত্মসম্মানে আঘাত লাগবে সেদিন ছেড়ে দেবেন।
জহরবাবু এও বলেছিলেন, তাঁর কাছে মূল শত্রু ফ্যাসিবাদী কেন্দ্রের সরকার। একুশের জয়ের স্রোতের পর বিজেপিকে রোখার লক্ষ্যেই তিনি তৃণমূলে সামিল হয়েছেন। আর তৃণমূলও তাঁকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নেয়নি। নিয়েছে বক্তা হিসেবে। পাল্টা এদিন সৌগত রায় বলেছেন, “জহর সরকার বলছেন উনি মোদীর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চান। কে ওঁর কথা শোনে, কী ওঁর গুরুত্ব রয়েছে?”
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির উগ্রহিন্দুত্বের বিরুদ্ধে একুশের ভোটে তৃণমূল যে জয় পেয়েছিল তার অন্যতম কারণ ছিল এই ধরনের মানুষের স্বর। যাঁরা তৃণমূল নন। কিন্তু বিজেপিকে রুখতে চান আন্তরিকভাবে। রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, এই সময়ে জহর সরকারকে যদি তৃণমূল পাল্টা আক্রমণ শানায় তাহলে সামগ্রিক ভাবে বৃহত্তর স্বার্থে সেই স্বরেই আঘাত পড়বে। কিন্তু সৌগত সেসবের ধার ধারেননি। জহরবাবু যা বলেছিলেন, তার চেয়েও ঝাঁঝাল ভাষায় প্রাক্তন আমলাকে বিঁধলেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা।
জহর সরকার অ-তৃণমূল বিজেপি বিরোধীদের কণ্ঠস্বর, তাঁকে অবজ্ঞা করলে ভুল করবে জোড়াফুল