দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাপের বিষের আন্তর্জাতিক চক্রের দুই পাণ্ডা গ্রেফতার হল বাংলায়। সিআইডি ও মালদহ পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করল দু’জনকে। ধৃতদের নাম আলম মিঁয়া (৩২) ও মুসফিক আলম (২৯)। ধৃত দু’জনই দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। শনিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হবে।
শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিআইডি টিম পৌঁছয় মালদহে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয় বামনগোলা থানার পুলিশ। এরপর পাকুয়াহাটের কাছে একটি পেট্রল পাম্প থেকে একটি ফরাসি বুলেটপ্রুফ বাক্স থেকে উদ্ধার হয় ৬০০ গ্রাম সাপের বিষ। যার মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় কোটি টাকার বেশি।
সিআইডি আধিকারিকরা মনে করছেন, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগ রয়েছে। মূলত বাংলাদেশ ও ভূটানের স্মাগলিং চক্রের যোগ থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
সাপের বিষ নেশার জন্য ব্যবহার করা হয়। যা আন্তর্জাতিক ভাবে নিষিদ্ধ। এই কারবার চালাতে বাংলায়ও জাল বিছিয়েছে বেআইনি চক্র। এমনিতেই গত কয়েক মাস ধরে উত্তরবঙ্গ হয়ে উঠেছে মাদক পাচারের চারণক্ষেত্র। লকডাউনের মধ্যেই একাধিক জায়গায় বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। কখনও তা আটক হয়েছে নদিয়ার পাগলাচণ্ডীতে কখনও একেবারে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশের জেলা মুর্শিদাবাদে। এবার সাপের বিষ চক্রের হদিশ মিলল মালদহে।
গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মালদহের পুলিশকর্তারা খতিয়ে দেখছেন ওই জেলায় এই জাল কোন কোন জায়গায় বিস্তৃত। কারা জড়িত রয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বছর তিনেক আগে কলকাতার যাদবপুর এলাকায় সাপের বিষের চক্রের পাণ্ডাকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। সেই সময়েও জানা গিয়েছিল, শিলিগুড়ি থেকে ওই বিষ কলকাতায় নিয়ে এসেছিল ওই ব্যক্তি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, মূলত ভিন রাজ্য ও প্রতিবেশী দেশগুলির পাহাড়ি এলাকা থেকেই এই বিষ আনা হয়। ফলে সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।