দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওঁদের তিনটি খেদ।
- রাজ্যের উচ্চশিক্ষার বাতাবরণ মর্মান্তিক ভাবে দূষিত হচ্ছে।
- যুবসমাজ হতাশ, বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়ছে।
- পশ্চিম বাংলার ছাত্রদের মেধা ও সারস্বত মান গর্বের বিষয় ছিল। সেই গর্ব ভূলুন্ঠিত হওয়ার উপক্রম।
বাংলায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রভর্তিকে কেন্দ্র করে ‘অবাঞ্ছনীয় ও অন্যায় ঘটনার’ অভিযোগ নিয়ে এমনই কড়া ভাষায় ধিক্কার জানালেন, সাহিত্যিক শঙ্খ ঘোষ, নবনীতা দেবসেন, প্রাবন্ধিক ও গবেষক সৌরীন ভট্টাচার্য, যাদবপুরের প্রাক্তন উপাচার্য অশোকনাথ বসু, শিক্ষাবিদ অশোক রঞ্জন ঠাকুর, সুকান্ত চৌধুরী, সুপ্রিয়া চৌধুরীদের মতো বিশিষ্ট জনেরা।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে ছাত্রভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা জট নিয়ে মঙ্গলবার এক বিবৃতি প্রকাশ করেন বুদ্ধিজীবীরা। সেই বিবৃতিতেই উঠে আসে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে এমন তীব্র নিন্দা।
অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরী এই বিবৃতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের হাতে তুলে দিয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে।
এই বিবৃতিতে বুদ্ধিজীবীরা আরও লিখেছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তাতে তাঁরা গভীর ভাবে বিচলিত। যাদবপুরের প্রবেশিকা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে তাঁদের অভিমত, কোনও পাঠ্যক্রমের সম্ভাব্য ছাত্রদের যোগ্যতার বিচার সেই পাঠ্যক্রমের শিক্ষকেরাই সব থেকে ভাল ভাবে করতে পারেন। সম্পূর্ণ অকারণে ছাত্র ভর্তির সফল ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে যে পরিবর্তিত ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে তাতে মেধার মূল্যায়নে গুরুতর বিঘ্ন ঘটতে বাধ্য। এর ফলে ছাত্রদের প্রতি অবিচার হবে এবং রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়টির সারস্বত মানের অবনতি ঘটবে বলেও মনে করছেন সকলে। সন্দেহ নেই, রাজ্যের শিক্ষা দফতরকেই কাঠগড়ায় তুলতে চেয়েছেন তাঁরা।

রাজ্যের নানা কলেজে ছাত্রভর্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে বারবার। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, মেধাতালিকায় নাম থাকার পরেও ভর্তির জন্য অন্যায় ভাবে টাকা চাইছেন শাসকদলের ছাত্রনেতারা।
পাশাপাশি কলা বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে জট কাটছে না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও। দীর্ঘদিন ধরেই কলা বিভাগে কিছু বিষয়ের জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হত। আর কিছু বিভাগে উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরের ভিত্তিতে সরাসরি ভর্তি হতেন পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুন: প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল যাদবপুরের কলা বিভাগে, বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা
তবে এই প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে বারবার আপত্তি তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, যে ছ’টি বিষয়ে ভর্তি করা হবে পরীক্ষার মাধ্যমেই। তার পরেই শুরু হয় বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নেওয়া হয় আইনি পরামর্শও।
তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় যাদবপুরের ছাত্র সংসদ। টানা ৪৪ ঘন্টা উপাচার্যের ঘরের সামনে অবস্তান-বিক্ষোভ করেন ছাত্রছাত্রীরা। পরে সিদ্ধান্ত হয়, এর পর থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্নপত্রের একটি স্থির করবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যাদবপুরের বাইরের শিক্ষকেরা। উত্তরপত্রও দেখবেন তাঁরাই। তবে এই সিদ্ধান্তে অপমানিত বোধ করেছেন যাদবপুরের শিক্ষকেরা।
এর পাশাপাশি বুদ্ধিজীবীদের এই বিবৃতি গোটা বিতর্কেই নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।