দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় প্যাচ প্যাচ করছে কাদা।আর রোদ উঠলে ধুলোয় নাজেহাল পথচারীরা। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় যেকোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। এই হল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের গুসকরা ২নং পঞ্চায়েতের শিবদা মোড় থেকে নওয়াদা মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির বারোমাস্যা। বহুবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
এলাকার লোকজন জানান, বছর ছ'য়েক আগে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্পে চার কিলোমিটার রাস্তা তৈরী হয়। কিন্তু গত ছবছরে সে রাস্তা একবারও সারাই করা হয়নি। তার উপর বর্ষার সময় জল জমে থাকে রাস্তার উপর। সব মিলিয়ে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তাটি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা তৈরি হওয়ার পর থেকেই পিচ উঠতে শুরু করে। এখন গোটা রাস্তাই খানাখন্দে ভরা৷ জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এই চার কিলোমিটার রাস্তার উপরে নির্ভর করেন নওয়াদা, শিবদা, ওড়গ্রাম,দেয়াসা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। নওয়াদা রেল স্টেশন, গুসকরা ২ নম্বর পঞ্চায়েত অফিস, আর আই অফিস ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে এই রাস্তার উপরে। কিন্তু বেহাল ভাঙাচোরা অবস্থার জন্য এই পথে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার বাসিন্দারা। নিত্যযাত্রীদের তরফে বারবার অভিযোগ জানিয়েও টনক নড়েনি প্রশাসনের। মেলেনি সুফল।
এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, গুসকরা ২নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান সুবীর মন্ডল বলেন, বারে বারে তাঁরা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা সংস্কারের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন সুরাহা মেলেনি। এই বর্ষায় রাস্তার অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হয়ে গেছে। নিত্যযাত্রীদের জন্য চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে রাস্তাটি।
স্থানীয় বাসিন্দা বঙ্কিম পাল জানান, স্টেশন, পঞ্চায়েত অফিস বা গুসকরা যাওয়ার ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগমাধ্যম এই রাস্তাটি। কিন্তু রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে এখন গাড়ি বা বাইক নিয়ে তো দূর, হেঁটে যাতায়াত করাও দায়। একই কথা শোনা যায় এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদের মুখেও।
পঞ্চায়েত প্রধান সুবীর মণ্ডল বলেন রাস্তার মধ্যে পড়া কালভার্টগুলি শক্তপোক্ত করে তৈরি করা হয় নি।ঢালাইয়ের পরিবর্তে পাইপ দিয়ে কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে গাড়ি ঘোড়ার চাপে কালভার্টগুলি ধ্বসে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় প্রতিদিনই পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে রাস্তা সংস্কারের দাবী করছেন।
এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সহভাধিপতি দেবু টুডু সংবাদমাধ্যমে বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য দায়িত্বে থাকা বাস্তুকারকে খবর পাঠানো হয়েছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।