দ্য ওয়াল ব্যুরো: এত দিন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করছিল। দিলীপ ঘোষ, সুজন চক্রবর্তীরা রোজই বলতেন, তৃণমূল এতটাই অমানবিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত দল যে এরা উমফানে সব হারানো মানুষগুলোর ত্রাণও চুরি করেছে!
মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল তথা ক্যাগকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, কাদের ত্রাণ পাওয়ার কথা অথচ পাননি, কেন পাননি, কী প্রক্রিয়ায় ঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ বন্টন হয়েছিল, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যদি ত্রাণ না পেয়ে থাকেন তাহলে তাঁরা কেন পাননি—এই সমস্ত বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট আগামী তিন মাসের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ক্যাগকে।
এ ব্যাপারে এদিন তৃণমূল ভবনের রুটিন সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “দুর্নীতি বলছেন কেন? বলুন হাইকোর্ট রিপোর্ট চেয়েছে!” প্রসঙ্গত, হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের হয়েছে তাতে মামলাকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, বিপর্যয়ের মধ্যেও রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলার এলাকাগুলিতে ত্রাণ নিয়ে বল্গাহীন দুর্নীতি হয়েছে।
শুধু বিরোধী দলের নেতারাই নন। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও একাধিক বার অভিযোগ করেছেন এ নিয়ে। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বক্তব্য ছিল, তাঁর কাছে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ আসছে যে, ত্রাণের চাল লুঠ হচ্ছে। শাসকদলের লোকজন এই ঘটনায় জড়িত রয়েছেন বলেও শুনতে পাচ্ছি।
গোসাবা থেকে সন্দেশখালি এই রকম অসংখ্য ঘটনা দেখা গিয়েছে যে, শাসকদলের নেতাদের নাম রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায়। মিলিয়ে দেখা গিয়েছে তাঁদের বাড়িঘরের তেমন কোনও ক্ষতিই হয়নি। কারও তিন তলা বাড়ি রয়েছে তাঁর নামও উমফানের টাকা প্রাপকের তালিকায় উঠে গেছিল। পরে অবশ্য এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠাতে গিয়ে দু’একটা ভুল হয়ে গিয়েছে।”