
শেষ আপডেট: 17 June 2023 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার হিংসা কবলিত ভাঙড়ে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। চব্বিশ ঘণ্টা পর শনিবার ক্যানিংয়ে অশান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। তার পর সাংবাদিক বৈঠকে বাংলায় বলেন, “ছাড়ব না ছাড়ব না, হবে না হবে না।” তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে এ ধরনের গুণ্ডাগিরি চলতে পারে না। যে কোনও মূল্যে হোক তা দমন করতেই হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে হবে পঞ্চায়েতে।
রাজ্যপাল এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, আমি সবটা দেখতে পারিনি। যে সব এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে তার দু-একটা পকেট ঘুরে দেখেছি। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। যাঁরা হিংসার ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছি। আবার আক্রান্ত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গেও কথা হয়েছে আমার। যা দেখেছি তাতে অমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। এ ধরনের গুণ্ডামি ও হিংসার ঘটনা কীভাবে ঘটে চলতে পারে।
রাজ্যপাল হিসাবে তাঁর ভূমিকার কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিভি আনন্দ বোস বলেন, আমি সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। সংবিধান যাঁরা দেশকে দিয়েছেন তাঁদের প্রতিও দায়বদ্ধ। কোথাও মানুষ পীড়িত বা আক্রান্ত হলে আমাকে হস্তক্ষেপ করতেই হবে। এটাই আমার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা।
রাজ্যপাল যে এদিন ক্যানিং যাবেন তা আগে জানানো হয়নি। দুপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ক্যানিং ও বাসন্তীতে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দুদিন আগে থেকে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন সুকান্ত। দেখা যায়, সুকান্ত বেরিয়ে যাওয়ার পরই রাজভবন থেকে জানানো হয় যে রাজ্যপাল ক্যানিংয়ে যাবেন।
রাজভবনে এই ঘটনা পরম্পরাকে নজর করেছে তৃণমূলও। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপির কথা রাজ্যপাল চলছেন। উনি মনে হয় শুভেন্দু অধিকারীকে ভয় পেয়েছেন। কদিন আগে দেখেছি, রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তার পর থেকেই দেখছি রাজ্যপাল ছুটে চলেছেন।
ঘটনা হল, শুধু শুভেন্দু নয়, রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আইএসএফ নেতা নওসাদ সিদ্দিকিও। তার পর ঘটনাচক্রে রাজ্যপাল ভাঙড়ে গিয়েছিলেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, মালদহে শনিবার এক তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন। কই রাজ্যপাল তো একবারও মালদহ নিয়ে কোনও কথা বললেন না। আমরা রাজ্যপালকে শ্রদ্ধা করি। উনি ওনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করুন। রাজ্য সহযোগিতা করবে। শুধু একটাই অনুরোধ বিজেপির কথা চলে মেরুদণ্ড সোজা রাখুন।
ভাঙড়ের পর ক্যানিংয়ে রাজ্যপাল, অভিযোগ জানাতে হাসপাতাল মোড়ে বিরোধীদের জমায়েত