
শেষ আপডেট: 9 May 2022 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রসগোল্লাতে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (GI Tag) স্বীকৃতি মিলেছে বাংলার মুকুটে। ওড়িশার সঙ্গে লড়াই করে জিতেছিল এই সম্মান। সেই তালিকায় নাম আছে বাংলার আরও দুই মিষ্টির। সরভাজা ও সরপুরিয়া। এবার সেই তালিকায় নাম তুলতে প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন বিষ্ণুপুরের (Bishnupur) মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। মোতিচুরের লাড্ডু নিয়েই ময়দানে নামছেন তাঁরা।
লাড্ডুর জগতে জিআই স্বীকৃতি আছে কেবল অন্ধ্রপ্রদেশের ‘বন্দর’ ও ‘তিরুপতি’র। এবার সেই তালিকায় নিজেদের মোতিচুরের লাড্ডুর স্থান পাকা করতে যাবতীয় কার্যকলাপ শুরু করে দিলেন বিষ্ণুপুরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। প্রক্রিয়াগত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আইআইটি খড়গপুর।
রবিবার বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসকের মিটিং হলে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা এক হয়েছিলেন। কীভাবে মোতিচুরের লাড্ডু জিআই স্বীকৃতি পাবে সেই নিয়ে এক কর্মশালা হয় সেখানে। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক অনুপকুমার দত্ত এবং খড়্গপুর আইআইটি থেকে আসা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
কোনও কিছুরই জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য সেই জিনিসে থাকতে হবে অনন্যতা এবং প্রাচীনত্ব। বিষ্ণুপুরের মোতিচুরের লাড্ডু মল্লরাজাদের আমল থেকে তৈরি হচ্ছে। সেই দিক থেকে ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাচীনত্ব রয়েছে। এই বিষয়ে খড়গপুর আইআইটির অধ্যাপক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "জিআই তকমা পেতে নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হয়। রবিবার সেই আবেদন করার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।"

যাঁর উদ্যোগে এদিনের এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিষ্ণুপুরের সেই মহকুমা শাসক অনুপকুমার দত্ত কী বললেন? জানালেন, "বিষ্ণুপুরের মোতিচুরের লাড্ডু জিআই স্বীকৃতি পেলে আলাদা গুরুত্ব পাবে। তার প্রচার ও প্রসার ঘটবে। তাতে বিষ্ণুপুরের সুনামের পাশাপাশি মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে।"
মান্না দে-র ফ্যান, ভালবাসেন ক্রিকেট, রায়ে ‘হিউম্যান টাচ’ দেন ভাবী প্রধান বিচারপতি
মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের কথায়, পিয়ালফলের বীজ গুঁড়িয়ে তার বেসন থেকে এই লাড্ডু তৈরি হয়। মল্লারাজাদের আমলে এই মিষ্টিটি রাজভোগ হিসেবে ব্যবহার হত। সেই থেকে আজও একইভাবে বিষ্ণুপুরের মোতিচুরের লাড্ডু তৈরি হয়। তবে এখন পিয়ারগাছ কমে যাওয়ায় বুটের বেসন দিয়ে এই লাড্ডু তৈরি হয়। কিন্তু ব্যাবসায়ীদের কথায়, এই লাড্ডুর স্বাদ আজও অটুট আছে।
বিষ্ণুপুরেই যে এই লাড্ডুর জন্ম এবং এই লাড্ডুর মধ্যে অনন্যতা এবং প্রাচীনত্ব দুই আছে তারই প্রমাণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।
এখনও পর্যন্ত লাড্ডুর জগতে বিখ্যাত অন্ধ্রপ্রদেশের ‘বন্দর’ ও ‘তিরুপতি’ লাড্ডু। যাদের নামের আছে জিআই স্বীকৃতি। রাজস্থানের রাজপুতদের হাতে জন্ম হলেও এই 'বন্দর' লাড্ডু এখন অন্ধ্র প্রদেশের ২৫০টি পরিবার তৈরি করে। বহু বছর থেকে এই লাড্ডু তৈরি হচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশেই। আর অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি মন্দিরে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয় 'তিরুপতি' লাড্ডু। এবার তাদের সঙ্গেই এক আসনে বসার লড়াই শুরু করল বিষ্ণুপুরের মোতিচুর।
ডায়রিয়ার আতঙ্ক বাড়ছে, জেলায় জেলায় সংক্রমণ, সুস্থ থাকতে কী করবেন