
শেষ আপডেট: 20 December 2022 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: দু'বছর আগে স্কুলের ভিতর থেকেই সাধের ছাতা (umbrella) খোয়া গিয়েছিল। সেই নিয়ে এতদিন ধরে চুপই ছিলেন স্কুলের দিদিমণি বনশ্রী ভৌমিক। গত দু'তারিখ বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎই সেই পুরোনো কথা টেনে আনেন তিনি। এরপর একঘর ছাত্রীর সামনে চোর অপবাদ দিয়ে অপমান করেন স্কুলের গ্রুপ ডি কর্মী পম্পা ভৌমিককে। এই নিয়ে তুমুল বিবাদের মধ্যে শেষে স্কুলে আসে পুলিশ। যদিও সমস্যা মেটেনি। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) কদমতলা বালিকা বিদ্যালয়ে (school)।
জানা গেছে, একঘর ছাত্রীর সামনে চোর অপবাদ শুনে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েন পম্পা দেবী। এরপর স্কুলের সমস্ত অশিক্ষক কর্মীরা মিলে বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কাছে প্রতিবাদ জানান। প্রধান শিক্ষিকা রীতা রায় বিষয়টি স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতিকে জানালে স্কুলে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। এরপর সকলের সিদ্ধান্ত অনুসারে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ।
তবে স্কুলের এই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ঢুকতে চায়নি পুলিশও। থানার পক্ষ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্টাফ কাউন্সিলের আলোচনা করে মেটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই মতো মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর আবার স্কুলে বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে প্রধান শিক্ষিকা, পরিচালন সমিতির সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওই শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীও।
সেই বৈঠকে শিক্ষিকা বনশ্রী ভৌমিককে বলা হয়, তাঁর অভিযোগের সাপেক্ষে প্রমাণ দাখিল করতে, অথবা শিক্ষিকা পম্পা ভৌমিকের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে। কিন্তু ভুল স্বীকার করতে অস্বীকার করেন ওই শিক্ষিকা। এরপরই ওই ঘরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। শেষ অবধি পরিস্থিতি সামাল দিতে কোতোয়ালি থানা থেকে ছুটে আসে পুলিশ। এরপর সেই দিদিমণিকে ভাল করে বোঝানোর চেষ্টা হলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। ফলে এর এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
অভিযোগকারিনী সেই গ্রুপ ডি কর্মী পম্পা ভৌমিক বলেন, ওই দিদিমণি একটি মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। তাও আবার ক্লাসের ছাত্রীদের সামনে। এটা ঠিক মেনে নেওয়া যায়না। তাঁর কাছে প্রমান চেয়েছিলাম, তিনি দিতে পারেননি। আমরা সবাই প্রধান শিক্ষিকাকে তাঁর বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষিকা বনশ্রী ভৌমিককে জিজ্ঞসা করা হলে তিনি কিছু বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
তবে এই দু'বছর আগে ছাতা চুরি এবং এতদিন পর পুরনো কাসুন্দি টেনে এনে স্কুলের ভিতর ধুন্ধুমার ঘটনা দেখে টিপ্পনি কাটছেন অভিভাবকরাও। তাঁরা বলছেন, দিদিমণির ছাতা উদ্ধার করতে গিয়ে স্টাফ কাউন্সিলের বৈঠক, পুলিশ সকলেই ব্যর্থ। এবার কি তাহলে ছাতা খুঁজতে গোয়েন্দা ডেকে আনা হবে!
মণিপুর থেকে ক্যানিং! মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে বাড়ি ফেরাল হ্যাম রেডিও