রেল দুর্ঘটনায় কাটা পড়েছে দুই পা, ফেরাল না এমআর বাঙুর হাসপাতাল, শুরু হলো অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মবিরতি, আন্দোলন যে জীবন বাঁচানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না সেটা প্রমাণ করল এমআর বাঙুর হাসপাতাল। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে আন্দোলন, ধর্নার মাঝেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হলো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।
রেল লাইনে আটকে গিয়ে ট্রেনে
শেষ আপডেট: 14 June 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মবিরতি, আন্দোলন যে জীবন বাঁচানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না সেটা প্রমাণ করল এমআর বাঙুর হাসপাতাল। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে আন্দোলন, ধর্নার মাঝেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হলো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।
রেল লাইনে আটকে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুই পায়েরই হাঁটুর নীচ থেকে কাটা পড়েছে এক ব্যক্তির। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ফিরিয়ে দেননি ডাক্তাররা। বরং অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন অবিলম্বেই। রোগীর নাম, পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধে অবধি হাসপাতালের যে জরুরি বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল, রাতে ওই রোগীকে নিয়ে আসার পরে জরুরি বিভাগের দরজা খুলে দিয়েছেন ডাক্তার-নার্সেরা।
এনআরএসে ডাক্তার-নিগ্রহ কাণ্ডে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়ায় কর্মবিরতিতে এখনও অনড় জুনিয়র থেকে সিনিয়র ডাক্তাররা। শনিবার রাত অবধি কাটেনি অচলাবস্থা। শহরের প্রায় সব হাসপাতালেরই আউটডোর ও জরুরি বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ। কলকাতার কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও সেখানে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। কোথাও জরুরি বিভাগে এসে কেউ চিকিৎসা পেয়েছেন। কোথাও আবার কাউকে ফিরে যেতে হয়েছে খালি হাতে।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ জরুরি বিভাগ খোলা রাখার দাবি করলেও সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা ছিল অমিল। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের অভিযোগ ছিল, জরুরি বিভাগের দরজা সামান্য ফাঁক থাকলেও ভিতরে কোনও ডাক্তার-নার্স ছিলেন না। দরজা আগলে দাঁড়িয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কর্মবিরতি চললেও আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পরিষেবা চালু রয়েছে বলে এ দিন বারবারই দাবি করছিলেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। তবে সেখানে আসা সব রোগীই যে পরিষেবা পেয়েছেন এমনটা নয়। বহুদূর থেকে এসেও ফিরে যেতে হয়েছে অনেককে।
তবে আন্দোলনের মাঝেও মানবিকতার মুখ দেখিয়েছে কিছু হাসপাতাল। তার মধ্যে রয়েছে বাগনানের গ্রামীণ হাসপাতাল। ওডিপি বন্ধ থাকলেও রাস্তায় বসে রোগী দেখেছেন চিকিৎসকরা। দিনকয়েক আগে আন্দোলন চলাকালীন মরণোত্তর দেহদানে সাহায্য করেছেন এনআরএস-এর জুনিয়র ডাক্তাররা।