
শেষ আপডেট: 10 March 2023 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: গ্রামে স্কুল থাকলেও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে আসা ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনার থেকে এখনও বঞ্চিত। তাঁদের মধ্যে শিক্ষার (Education) আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন আদিবাসী তরুণী ঈমানী মুর্মু। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা জঙ্গলমহলের আদিবাসী গ্রাম মোলডাঙা। সেখানে প্রায় একশো আদিবাসী (aboriginal) পরিবারের বাস।
গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর। এমনই এক দরিদ্র পরিবার থেকে ঈমানীর উত্থান। একসময় গ্রামে কোনও পাঠশালা ছিল না। তবু নিজের অদম্য জেদেই পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন এই তরুণী। ছেলেবেলা থেকে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ঈমানী স্নাতক হওয়ার পর বিএড করেছেন। পরে একাধিকবার স্থায়ী চাকরি পেতে সরকারি পরীক্ষায় বসেছেন। কিন্তু চাকরি জোটেনি। তবু হাল না ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছেন নিজের লক্ষ্যে। একার কাঁধে তুলে নিয়েছেন গ্রামের দুঃস্থ ছেলে-মেয়েদের (children) লেখাপড়ার দায়িত্ব। তৈরি করেছেন ঈমানীর পাঠশালা।
মলাদিঘি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সামান্য বেতনে শিক্ষিকার চাকরি করে বাকি সময়টুকু কাজে লাগান নিজের পাঠশালায়। সেখানেই গ্রামের গরিব শিশুরা বিনামূল্যে ঈমানীর কাছে লেখাপড়া করে।
গ্রামের এক বাসিন্দা মিথুন মুর্মু জানান, ঈমানীর পাঠশালার জন্য ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে। এই পাঠশালা যাতে আরও বড় করা যায় তাই সরকার এই তরুণীর সাহায্যে এগিয়ে আসুক। তাতে পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। ভাবি প্রজন্ম পাবে শিক্ষার আলো।
ঈমানী জানান, 'সরকারি চাকরি না পেলেও সমাজের প্রতি একটা দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় সাহায্য করছি। সেই অনুপ্ররণা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই পেয়েছি।'
মণীশের জায়গায় অতিশী, সত্যেন্দ্রর দফতর পেলেন সৌরভ, শপথ নিলেন নতুন দুই মন্ত্রী