
শেষ আপডেট: 27 September 2019 18:30
কথিত আছে, কোচবিহার রাজপরিবারের সদস্য বিশ্ব সিংহ ও বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির সদস্য শিস্য সিংহ, মিলে বৈকুন্ঠপুরের রাজপরিবারের পুজো শুরু করেছিলেন। শোনা যায়, এই দুই রাজপরিবারের বংশধর বৈকুন্ঠপুরের গহন জঙ্গলে মা ভগবতীর মাটির মূর্তি গড়ে দুর্গা পুজো শুরু করেছিলেন।
ঘরের মেয়ে উমার বাহন পাখাযুক্ত শ্বেত সিংহ এবং বাঘ। গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী ছাড়াও থাকেন জয়া, বিজয়া, মহামায়া। বহু কাল ধরে চণ্ডীর ছবিও রয়েছে রাজপরিবারে। পুজো করা হয় সে ছবি সাজিয়েও। রাজ পরিবারের পুরোহিত শিবু ঘোষাল। বংশপরম্পরায় দেবীর পুজো করে আসছেন ঘোষাল বাড়ির সদস্যেরাই। তিনি বলেন, কাঞ্চন বর্ণা দেবীকে নবরত্নের হার ও সোনার হার পরানো হয়। দশ হাতে থাকে সোনার বালা। পরানো হয় সোনার টায়রা-টিকলি। হাতে দেওয়া হয় রুপোর অস্ত্র।
রাজ পরিবারের আরাধনায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘অর্ধরাত্রি বিহিত পুজো। যদিও ওই পুজো দেখার নিয়ম নেই। পরিবারের লোকেরা বলেন, আগে অষ্টমী তিথিতে পুজোয় নরবলি হত। ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখন সেই বলি হয় অন্যভাবে। চালের গুঁড়ো দিয়ে কুশ পুতুল তৈরি করে তা বলি দেওয়া হয়। নবমীর দিন ছাগ বলির পাশাপাশি হয় হাঁস, পায়রা, আখ ও চালকুমড়ো বলি।
ভোগের থালায় প্রতিদিনই আমিষ। রুই, কাতলা, বোয়াল নানা রকম মাছ দিয়ে দেবীর ভোগ রান্না হয়। দশমীর বিদায়ের আগে উমার পাতে সাজিয়ে দেওয়া হয় পান্তা। সঙ্গে ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচু শাক, সাপলার তরকারি, ইলিশ মাছ ভাজা, পুঁটিমাছের ঝোল।
ষষ্ঠী থেকে মানুষের ঢল নামে বৈকুণ্ঠপুরের রাজবাড়িতে। আর দশমীর ভাসানে তা যেন উন্মাদনা। বেলা বারোটায় তোপধ্বনি করে বিসর্জন শুরু হয়। রথে চাপিয়ে নাটমন্দির সংলগ্ন পুকুরে দেওয়া হয় দেবী বিসর্জন।
