
শেষ আপডেট: 30 September 2019 18:30
হঠাৎই মৃত্যু হল তাঁর পুত্র গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তীর। বন্ধ হয়ে গেল পুজো। এর বহু বছর পরে রাজ বাড়ির চত্বরে মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন রাজবংশের মেয়ে রুক্মিণী দেবী। তাঁর নামেই সংকল্প হয় পুজোর। তারপর থেকেই চলে আসছে হেতমপুর রাজবাড়ির পুজো। রাজকন্যার নামে পুজোর সংকল্পের প্রথা বজায় রয়েছে এখনও।
রুক্মিণীদেবী ছিলেন মুন্সেফের ঘরণী। তাই এই পুজো মুন্সেফ ঠাকুরানির পুজো নামে পরিচিত ছিল তখন। পুজো ঘিরে হত রাজকীয় আয়োজন। আচার নিষ্ঠা মেনে সাড়ম্বরে দেবী আরাধনাতো হতই, পাশাপাশি আশেপাশের সমস্ত গ্রামের মানুষের দেদার ভোজের ব্যবস্থা হত পুজোর ক’দিন। সন্ধ্যায় পুতুল নাচ, যাত্রার আসর। হেতমপুরের রাজবাড়ির পুজো বলে কথা ! আয়োজনে ফাঁক থাকতো না কোনও।
এখন সে জৌলুস হয় তো নেই। কিন্তু আচার নিষ্ঠায় ফাঁকও নেই কোনও। এ বার এই পুজোর ১৮৫ বছর। পুজোর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন রাজবাড়ি দশম উত্তরসুরি বিশ্বরঞ্জন চক্রবর্তীর নাতনি বৈশাখী চক্রবর্তী। পুজোর দায়িত্ব নিয়ে এ বার ডাকের সাজের প্রতিমা আনাচ্ছেন তিনি। বললেন, ‘‘সাজে হয়তো সামান্য বদল আনলাম, কিন্তু পুজো হবে বংশের সমস্ত রীতি নীতি মেনে।’’
রাজবাড়ির পুজোতে পশু বলি হয় না। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর দিন হয় মণ্ডা বলি। সপ্তমীর দিন এক কেজি ওজনের মণ্ডা, অষ্টমীর দিন দু’কেজি ওজনের মণ্ডা এবং নবমীর দিন এক কেজি ওজনের মণ্ডা বলি দেওয়া হয়। বিশেষ দোকান থেকে তৈরি হয়ে আসে সেই মন্ডা। বৈশাখীদেবী বললেন, ‘‘এ সমস্ত প্রথা বজায় থাকবে একই ভাবে।’’
হেতমপুর রাজবাড়ির পুজো শুরু হলে তবেই শুরু হয় আশেপাশের অন্য বাড়ির পারিবারিক দুর্গা পুজো। দুবরাজপুরের সমস্ত বারোয়ারি পুজোও শুরু হয় রাজবাড়ির পুজো শুরু হওয়ার পর। প্রায় দু’শতাব্দী ধরে চলে আসছে এই রীতি। সময়ের দাবিতে আড়ম্বর হারালেও ঐতিহ্যে আজও উজ্জল হেতমপুর রাজবাড়ির পুজো।
