
শেষ আপডেট: 23 September 2023 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফল প্রকাশের পর দু’সপ্তাহ অতিক্রান্ত। বিধায়ক হিসেবে এখনও শপথ নেওয়া হয়নি ধূপগুড়ি উপ নির্বাচনে সদ্য জয়ী তৃণমূল বিধায়ক (Dhupguri Tmc Mla) ডক্টর নির্মলচন্দ্র রায়ের (Nirmal Chandra Roy)। সূত্রের খবর, চিরাচরিত প্রথা ভেঙে বিধানসভার পরিবর্তে শনিবার রাজভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করার জন্য ডেকেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তবে আর পাঁচটা দিনের মতো শনিবারও তাঁকে দেখা গেল ধূপগুড়ি গার্লস কলেজে ক্লাস নিতে!
কোনও রাখঢাক না রেখে এঘটনায় সরাসরি রাজ্যপালের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "বিধানসভায় কিছু না জানিয়ে উনি ধূপগুড়ির বিধায়ককে সরাসরি ফোন করে রাজভবনে ডেকেছিলেন। সংসদীয় রীতিতে এটা ঠিক নয়। নেত্রী না ফেরা পর্যন্ত এই বিষয়ে আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না।"
৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়। জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, বিধানসভার পরিবর্তে ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান রাজভবনে করতে চান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এজন্য সম্প্রতি সরাসরি ধূপগুড়ির বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে রাজ্যপাল ফোনও করেছেন বলে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বিষয়টি জানতে পেরে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে দলের অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, বাংলায় অতীতে কোনও বিধায়ককে রাজভবনে শপথ নিতে দেখা গিয়েছে, এমন নজির নেই। রাজ্যপাল সেই পরিষদীয় রীতি নীতিকেই লঙ্ঘন করতে চাইছেন।
পর্য়বেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের সময় ছাড়া মাঝে কোনও উপ নির্বাচন হলে জয়ী বিধায়কদের শপথের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব দেন রাজ্যপাল। এমনকী রাজ্যপাল নিজেও শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। কিন্তু সাধারণত, বিধায়কের শপথগ্রহণের এই অনুষ্ঠান বিধানসভাতেই হয়ে থাকে। রাজ্যপাল সেই রীতি ভেঙেছেন বলে দাবি শাসকদলের।
ধূপগুড়ির সদ্য জয়ী বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায় বলেন, “এই বিষয়ে যা বলার বিধানসভার পরিষদীয় দফতরের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলবেন। আমি কোনও মন্তব্য করব না।" বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার দু'সপ্তাহ পরেও শপথ নিতে না পারার ঘটনায় পরোক্ষে রাজভবনের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। নির্মলবাবু বলেন, "বিধায়ক হিসেবে শপথ না হওয়ায় সরকারি বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। সমস্যায় পড়ছেন এলাকার মানুষ থেকে পড়ুয়ারা। বিভিন্ন স্কলারশিপের সাক্ষরের জন্য আসছে ছাত্র ছাত্রীরা। শপথ না হওয়ায় আমি কিছু করতে পারছি না।"
বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলেও নির্মলবাবু নিয়মিত কলেজে আশায় খুশি অধ্যক্ষ থেকে পড়ুয়ারা। তাঁদের কথায়, "ভেবেছিলাম বিধায়ক হওয়ার পর কাজের চাপে উনি হয়ত নিয়মিত কলেজে আসতে পারবেন না। কিন্তু আমাদের ধারণা উনি ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন।"
রাজ্যের এক প্রবীণ বিধায়কের কথায়, “অতীতেও নানা বিষয়ে রাজ্য বনাম রাজ্যপালের মধ্যে মতান্তর হয়েছে। কিন্তু সীমা অতিক্রমের বিষয়টি বিশেষ ঘটেনি। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল বোস যেন সব কিছুর উর্ধে উঠতে চাইছেন। এটা বরদাস্ত করা সম্ভব নয়।” অর্থাৎ শিক্ষাঙ্গনের পর এবার বিধায়ক শপথকে ঘিরেও রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাত ফের তীব্রতর হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যদিও এই বিষয়ে এখনও রাজভবনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন: তালবন্ধের পর এবার মুর্দাবাদ স্লোগান, মন্ত্রী সুভাষকে ঘিরে বাঁকুড়ায় প্রকট বিজেপির কোন্দল