
শেষ আপডেট: 20 September 2023 03:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আগে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। সেপ্টেম্বর মাসের গোড়ার দিক থেকে ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ২০১৯ সালের পর গত পাঁচ বছরের মধ্যে ফের এ বছরে ডেঙ্গির দাপট বেড়েছে বাংলায়। ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভার, শক সিন্ড্রোমে মৃত্যু বাড়ছে। ডেঙ্গির কোন প্রজাতির প্রকোপ বেড়েছে, কোন কোন এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি তা জানতে সেরোটাইপিং পরীক্ষা করার কথা ভাবছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়গনস্টিক ল্যাবরেটরিতে (ভিআরডিএল) পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গিতে (Dengue) নতুন নতুন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, ফলে রোগ ধরতে অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। পরে পরীক্ষা করে ধরা পড়ছে ডেঙ্গি। আবার পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, খাদ্যনালিতে সংক্রমণ নিয়েও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এমনকি কার্ডিয়াক কমপ্লিকেশনও দেখা যাচ্ছে । নিউরোলজিক্যাল সমস্যা হচ্ছে অনেকের। আবার ডেঙ্গিতে চোখ নষ্ট হতেও দেখা গেছে। খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে প্লেটলেট। রক্তক্ষরণ বা ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভারে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন আসছে দেশে, নভেম্বর থেকে ট্রায়াল শুরু হবে বাংলাতেও
ডেঙ্গির (Dengue) মূলত চারটি স্ট্রেন। ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩, ডেন-৪। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হল ডেন-২ ও ডেন-৪। তুলনায় সবচেয়ে বেশি নিরীহ ডেন-১ এবং ডেন-৩। চলতি বছরে যখন প্রথম ডেঙ্গির সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল তখন স্ট্রেন ছিল ডেন-৩ (Dengue) । তাই এ নিয়ে খুব বেশি ভয় পাননি স্বাস্থ্যকর্তারা। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেন-২। এই ডেন-২ এবং ডেন-৪ যদি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে তাহলে মৃত্যু আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। সেই বছরও দেখা গিয়েছিল ডেন-২ প্রজাতির সংক্রমণ। ওই বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়ে গিয়েছিল ২০ হাজার। আর মৃতের সংখ্যা ছিল শতাধিক। ২০২২ সালে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এ বছর ফের ডেঙ্গি ভয় ধরাচ্ছে।
ভিআরডিএল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গি এনএস ওয়ান এবং আইজিজি-আইজিএম, ক্রাব টাইফাস, লেপ্টোস্পাইরা, হেপাটাইটিস বি, সি, এ এবং ই, ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানেল (রাইনো, আরএসভি, সোয়াইন ফ্লু, এইচ থ্রি এন টু) ইত্যাদির পরীক্ষাও শুরু হবে। দেশের শীর্ষ ভাইরাস গবেষণাকেন্দ্র পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি জিকা ভাইরাসের কিট দেওয়ায় জিকা পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। জ্বর এলে দ্রুত এনএস-১ টেস্টের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে চিকিৎসকদের মতে,কোন প্রজাতির ডেঙ্গি তা দেখে চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা হয়ে যায় না। সুতরাং, যদি কোনও ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়ে তাহলে দেরি না করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।