
শেষ আপডেট: 16 May 2022 11:57
দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি পরিবারে আছে সাইকেল (Cycle)। কেন্দ্রীয় সরকারের সদ্য প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ভারত সরকার পাঁচ বছর অন্তর জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। ওই সমীক্ষায় অন্য অনেক তথ্যের সঙ্গে জানতে চাওয়া হয় পরিবারে সাইকেল আছে কিনা। সাইকেল থাকা বা না থাকার সঙ্গে একদিকে যেমন আর্থিক মানদণ্ড সম্পর্কে ধারণা করা যায়, তেমনই সাইকেল (Cycle) শরীর-স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকাও নিয়ে থাকে।
জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার পঞ্চম রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৯-২০২১ এই দু বছর ধরে চলা সমীক্ষায় দেখা গেছে পরিবার পিছু সাইকেল থাকার ক্ষেত্রে বাংলার পর শতাংশের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে আছে উত্তরপ্রদেশ।
নবান্নের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭৯ শতাংশ পরিবারে সাইকেল (Cycle) থাকার নেপথ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প 'সবুজ সাথী'র। ওই প্রকল্পে সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের স্কুল জীবনে একবারের জন্য সাইকেল দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে চালু হয় সবুজসাথী প্রকল্প। এই প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাতায়াত যেমন সহজ হয়েছে তেমনই দূষণমুক্ত যানের প্রসার ঘটেছে। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকার এবং আন্তর্জাতিক বহু প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের প্রসংশা করেছে। ২০১৫ থেকে দফায় দফায় সবুজসাথী প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত এক কোটির কিছু বেশি সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
যদিও বিরোধীরা বলছে, সাইকেল (Cycle) নিয়ে ঢাকঢোল বাজানো অর্থহীন। দেশের বহু ঘরেই মোটর সাইকেল আছে। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, বিজেপি শাসিত গুজরাত ও তৃণমূলের দখলে থাকা পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক অবস্থার ফারাকটা সাইকেলের সংখ্যা থেকেও সহজে বোঝা যায়। অনুমান করা যায় গুজরাত আর্থিকভাবে কতটা এগিয়ে।
ওই নেতার কথায়, গুজরাতে মাত্র তিরিশ শতাংশ পরিবারে সাইকেল (Cycle) আছে, কারণ সেখানকার মানুষের হাতে পয়সা আছে। তাই সেখানে ঘরে ঘরে মোটর সাইকেল ও চার চাকা ঢুকে পড়েছে। বাংলায় অর্থনীতি এতটাই খারাপ যে মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার যথেষ্ট কম।
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই বলে থাকেন বাংলা একশো দিনের কাজের প্রকল্পে এক নম্বরে আছে। তিনি আসলে খেয়াল রাখেন না, এটা সাফল্য নয়, ব্যর্থতার নজির। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে লোককে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে সামান্য মজুরির কাজে গা ঘামাতে হচ্ছে।