দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিড ডে মিল খাওয়ার পরে উচ্ছিষ্ট ফেলা হয় নির্দিষ্ট একটি ড্রামে। শিলিগুড়ির তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ে এমনটাই চলছে রোজ। পরের দিন সকালে সরকারি সাফাইকর্মী এসে ড্রাম খালি করে নিয়ে যান। কিন্তু আজ দুপুরে স্কুল ছুটির পরে সেই ডাস্টবিনেই ঘটে গেল বিপদ।
খাবারের সন্ধানে তাতে মুখ ঢুকিয়েছিল এক নিরীহ গরু। সে বেচারা জানত না, ডাস্টবিনের মুখ আর তার মাথার সাইজ় একেবারে টায়েটায়ে। ফলে ঠেলেঠুলে কোনও রকমে ডাস্টবিনের তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও, মুখ বার করতে গিয়েই হল বিপদ। মুখের সঙ্গে আটকে থাকা অবস্থায় রয়ে গেল গোটা ডাস্টবিনটি! সেই ডাস্টবিন বার করতে শেষমেশ হাজির দমকল!
ঘড়িতে তখন দুপুর তিনটে ২০। ঠা ঠা রোদে জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে স্কুল চত্বর। ক্লাস ইলেভেনের রেজাল্ট নিয়ে মিটিং ছিল, সেটা শেষ করে বেশির ভাগ শিক্ষকই বাড়ি চলে গিয়েছেন। হেডমাস্টারমশাই-সহ কয়েক জন শিক্ষক রয়ে গিয়েছেন স্কুলে। হেডমাস্টারমশাই নিজের রুমে ব্যস্ত রেজাল্টের কাজ নিয়ে। কয়েক জন শিক্ষক বাইরে ছায়ায় দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছিলেন নিজেদের মধ্যে।
তাঁদেরই মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক শিক্ষক, নিরুদ্দেশ সুবা প্রথম লক্ষ করেন বিষয়টি। কথাবার্তা বলতে বলতেই দেখছিলেন, ডাস্টবিনে খাবারের খোঁজে মুখ ঢুকিয়েছে একটি কালো গরু। বেশ কিছু ক্ষণ ধরেই মুখটা ভিতরে ঢোকানো ছিল তার। সুব্বা বাবু বারবার খেয়াল করছিলেন, গরুটি মুখ বার করে কি না।
আরও কিছু ক্ষণ পরেও মুখ যখন বেরোল না, তখন নিজেই সামনে যান তিনি। দেখেন, যা আশঙ্কা করেছেন তাই। ডাস্টবিনে মুখ আটকে ফেলেছে গরুটি। শিক্ষকেরা এগিয়ে এসে বেশ কিছু ক্ষণ চেষ্টা করেন গরুটির মুখ বার করার। হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁরা জানান হেড মাস্টারমশাইকে।
প্রধান শিক্ষক ত্রিদীপ বিশ্বাসও খানিক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে, দমকলে ফোন করেন শেষমেশ। খবর পেয়ে, কাঁচি-করাত নিয়ে হাজির হন দমকল-কর্মীরা। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে যে করাত ছিল, তাতে কাটা যায়নি ওই ডাস্টবিন। ফের বিশেষ ধরনের হেক্সো ব্লেড নিয়ে আসেন তাঁরা। অবশেষে সেই ব্লেডে ডাস্টবিন কেটে উদ্ধার করা হয় গরুটিকে। এই কাটাকাটি চলার সময়ে অবশ্য মোটেও জ্বালাতন করেনি সেই গরু। দিব্যি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ল্যাজ নেড়ে মাছি তাড়িয়েছে।
দেখুন সেই ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=055ZLFhy26I&feature=youtu.be
স্কুলের শিক্ষক অরিজিৎ ভট্টাচার্য, সুমন দাস, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস,পরিতোষ দাশ, সুকান্ত সরকাররা বলছেন, এমন ঘটনা স্কুলে এই প্রথম। দমকল কর্মীদের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন তাঁরা। আর বিশেষ করে বলেছেন শিক্ষক নিরুদ্দেশ সুবার কথা, যাঁর পর্যবেক্ষণ ও তৎপরতা দুই-ই প্রশংসাযোগ্য।