করোনা সংক্রমণ রুখতে সরানো হল শেওড়াফুলির পাইকারি বাজার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেও প্রশাসনের সমস্যা হচ্ছিল হুগলী জেলার সব চেয়ে বড় পাইকারি বাজার শেওড়াফুলি বড় বাজারে ভিড় সামলানো। শেওড়াফুলি স্টেশন লাগোয়া সেই পাইকারি বাজারে কেনাবেচায় ভিড় সামাল দেওয়াই যাচ্ছিল না। জেলার সব পুরসভা ও কয়েকটি পঞ্চ
শেষ আপডেট: 24 April 2020 07:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেও প্রশাসনের সমস্যা হচ্ছিল হুগলী জেলার সব চেয়ে বড় পাইকারি বাজার শেওড়াফুলি বড় বাজারে ভিড় সামলানো। শেওড়াফুলি স্টেশন লাগোয়া সেই পাইকারি বাজারে কেনাবেচায় ভিড় সামাল দেওয়াই যাচ্ছিল না। জেলার সব পুরসভা ও কয়েকটি পঞ্চায়েতকে করোনা সংক্রমিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করেছে হুগলি জেলা প্রশাসন। তাই যেসব বাজারে খুব ভিড় হয় সেই সব বাজার ফাঁকা জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। শ্রীরাপুর পুরসভা এলাকার সব বাজার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে তা সে খুচরো বাজার হোক বা পাইকারি বাজার। এবার শেওড়াফুলি বাজারকেও শেওড়াফুলি সুপার মার্কেট কৃষক বাজারে পাঠানো হয়েছে।
লকডাউনে শেওড়াফুলির পাইকারি বাজারে সামাজিক দূরত্ব কোনও ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। গ্রামাঞ্চল থেকে চাষিরা যেমন এখানে ফসল নিয়ে বিক্রি করতে আসেন তেমন পাইকাররাও শেওড়াফুলিতে আসেন কিনতে আসেন সবজি কিনতে। পোলবার সুগন্ধায় গোটু পাইকারি বাজার থেকে এক ব্যক্তি করোনা সংক্রামিত হয়েছেন বলে সন্দেহ প্রশাসনের। তাই শুক্রবার সকাল থেকে শেওড়াফুলি বাজারকে কৃষক বাজারের ফাঁকা জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বসানো হয়েছে। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজার রেখে পাইকার ও চাষিদের বেচাকেনার নির্দেশ দিয়েছে।
শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসকের দফতরে বুধবার শ্রীরামপুর পুরসভা ও বাজার কমিটির বৈঠকে পুর এলাকার সব বাজার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। শ্রীরামপুর পুরসভা এলাকায় ছোট ও বড় মিলিয়ে আঠেরোটা বাজার আছে। লকডাউন চললেও সেই বাজারে ভিড় লেগেই ছিল। শ্রীরামপুরে তিনজনের শরীরে ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণ ঘটেছে। লকডাউনের নিয়ম না মানলে আরও বেশি সংখ্যায় লোকের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেছে প্রশাসন। সংক্রমণ ঠেকাতে এখন বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে পুর এলাকাগুলিতে। মাছ ও সব্জি বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই কারণেই।

বাজার কমিটি ও প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা ঠিক করবেন বাড়ি বাড়ি ঘুরে কারা সবজি বিক্রি করবেন। আপাতত প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য কুড়ি জন করে ভেন্ডর ঠিক করে দেওয়া হয়েছে যাঁরা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে কাঁচা আনাজ ফেরি করছেন। কাউকেই আর বাজার করতে বাইরে বেরোতে হচ্ছে না।
মাস্ক না পরলে রেশন, পেট্রোল, শাকসবজি মুদিখানা থেকে ওষুধ — কিছুই মিলবে না বলে গত ১৩ এপ্রিল জানিয়ে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার মাস্ক সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করার পরে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছিল শ্রীরামপুর পুরসভার পক্ষ থেকে। শ্রীরামপুর শহরের বিভিন্ন রেশন দোকান, পেট্রোল পাম্প ও বাজারগুলিতে এই বিজ্ঞপ্তি সেঁটে দেওয়া হয়েছিল। তাতে লোকে মাস্ক পরছিল বটে তবে বাজারে ভিড় কমছিল না।