দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে যে ১৯৩ জন নতুন করোনা আক্রান্ত ধরা পড়েছেন, তার মধ্যে ৫৮ জনই কলকাতার বাসিন্দা। কিন্তু কলকাতার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি। এই তিন জেলায় একদিনে নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ২৪, ২১ ও ১৯। পিছিয়ে নেই মুর্শিদাবাদও, সেখানে ধরা পড়েছেন ১৩ জন নতুন করোনা আক্রান্ত।
গত কয়েক দিনে বাংলার করোনা আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, গত শুক্রবার, ২২ মে রাজ্যে ধরা পড়েছিলেন ১৩৫ জন নতুন করোনা রোগী। শনিবার, ২৩ মে এই সংখ্যাটা হয় ১২৭। রবিবার, ২৪ মে আচমকাই সংখ্যাটা বেড়ে যায় ২০৮। সোমবার ২৫ মে, ১৪৯ জন করোনা রোগী ধরা পড়েন বাংলায়। আজ মঙ্গলবার ১৯৩ জন ধরা পড়ার পরে এই সংখ্যাটা মোট বেড়ে দাঁড়াল ৪০০৯।

তবে পাশাপাশি আর একটি দিকেও নজর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চার দিন একটানা ৯ হাজারের বেশি করে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। আজ সেই সংখ্যাটা ৯২২৮, যা এযাবৎ সর্বাধিক। সব মিলিয়ে রাজ্যে এই নিয়ে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২২৭। এই সংখ্যাটা খুবই আশাজনক বলে আজ বিকেলে নবান্নে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মঙ্গলবারের বুলেটিন বলছে, রাজ্যের ডিসচার্জ রেটও আশাজনক। ৩৭.০৬ শতাংশ। ৭২ জন আজ সেরে ওঠার পরে মোট সুস্থ হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৮৬। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যাও কম, ৫ জন। রাজ্যে মোট মৃত্যু হল ২১১ জনের।

তাই সব মিলিয়ে রাজ্যের করোনা সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী হলেও, এখনই আশাহত হচ্ছে না স্বাস্থ্য ভবন। কারণ টেস্টের সংখ্যা বাড়লে সংক্রমণের সংখ্যাও বেশি ধরা পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে বিভিন্ন জেলায় যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরেছেন অন্য রাজ্য থেকে, তাঁদের মধ্যেও একটা বড় অংশের উপসর্গ রয়েছে। কিন্তু তাই বলে তাঁদের ফেরার প্রক্রিয়া আটকানো যাবে না, বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গেই দেখতে হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
কিন্তু পাশাপাশি জরুরি সচেতনতাও। তাই অন্য রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত জেলাকেই। এতে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের তো বটেই গোটা রাজ্যেরই মঙ্গল।