
শেষ আপডেট: 21 September 2023 03:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির অভিযোগে দিনকয়েক আগেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল মনোজিৎ বাগীশ (Constable Manojit Bagish)। যাঁর কাণ্ডকারখানা জানার পর এখন পিঠপিছে ‘কোটিপতি কনস্টেবল’ বলেও ডাকছেন সহকর্মীদের কেউ কেউ। পুলিশি তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যেই তাঁকে নিয়ে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, উচ্চ মহলের পুলিশকর্তা থেকে শুরু হয়েছে প্রভাবশালী অফিসার, সবার কাছেই তাঁর যাতায়াত ছিল। আর যে কোনও প্রয়োজনে প্রথমে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার বান্ডিল সেই প্রভাবশালীর সামনে রেখে নিজের আবদার জানাতেন মনোজিৎ। এভাবে ঘুষ (bribe) দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নেওয়ার কথা জানতে পেরে তাজ্জব তদন্তকারী গোয়েন্দারাও।
অভিযোগ, এরকম ভাল ভাল কথা বলে ঘুষ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে একেবারে করায়ত্ত করে ফেলেছিলেন মনোজিৎ বাগীশ। তবে কখনও কখনও উঁচু পদে থাকা অফিসারদের এভাবে তুষ্ট করতে গিয়ে ধমক বা তিরস্কার জুটেছে। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে কেউ কেউ তাঁকে বাইরেও বের করে দিয়েছেন। কিন্তু নিজের হাতযশের ওপর মনোজিতের এতটাই ভরসা ছিল যে, এরপরেও তিনি একাধিক উঁচুপদের অফিসারের কাছে গিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নিয়েছেন। কখনও কারও নির্দিষ্ট পোস্টিংয়ের জন্য তদ্বির, কারও বদলি বা সাসপেনশন আটকানো, আবার কোনও অভিযুক্তকে তদন্তের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেওয়ার আবদারই মূলত করতেন তিনি। এমনটাই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। এই নিয়ে এখনও মনোজিৎকে জেরা করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, প্রথমে ওই প্রভাবশালী অফিসারের কাছে গিয়ে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দিকে বাড়িয়ে দিতেন কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার বান্ডিল। হাতে নয়, একেবারে ভগবান বা পুরোহিতকে প্রণামী দেওয়ার মতো সেই টাকা তিনি রাখতেন পুলিশকর্তার পায়ের কাছে। তারপর তাঁকে নিয়ে প্রশংসাসূচক কথা শুরু করতেন মনোজিৎ। সব শেষে আসল কথাটি বলতেন অভিযুক্ত। এভাবে তিনি যে কতজন উচ্চপদস্থ অফিসারের থেকে সুবিধা লাভ করেছেন, তার ইয়ত্তা নেই। মাঝেমধ্যে ব্যর্থও হতেন তিনি। কিন্তু ‘ভেঙে’ পড়তেন না। আবার নতুন উদ্যমে ৫০ হাজার টাকার বান্ডিল নিয়ে পৌঁছে যেতেন কারও কাছে।
কয়েকদিন আগে রাজ্য পুলিশের এই অভিযুক্ত কনস্টেবলকে বীরভূমের রামপুরহাট থেকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। আপাতত তাঁর এই বিপুল টাকা ও সম্পত্তির উৎস খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের আভ্যন্তরীণ মহল সূত্রে খবর, এই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বহু আগে থেকেই একাধিক কায়দায় টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। হাওড়া (গ্রামীণ) পুলিশে কর্মরত থাকার সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এসব কথা কানে আসছিল মনোজিতেরও। তাই এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের তদন্ত যাতে শুরু না হয়, সেই জন্য রীতিমতো একাধিক মহলে প্রভাব খাটাতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তবে ধৃতের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁদের মক্কেলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই।
জয়নগরের বন্দুকবাজ রহমত! বৈঠকখানায় বসে বন্দুক বানায় আর লুকিয়ে রাখে পুকুরে